‘দাদার ছত্রছায়া’ থেকে গা ঢাকা! সুশান্ত ঘোষকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগে সরগরম ১০৮ নম্বর ওয়ার্ড

Spread the love

একসময় এলাকায় তাঁর নাম শুনলেই নাকি কাঁপতেন ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ ছিলেন ওই এলাকার ‘অঘোষিত শাসক’। তোলাবাজি, জমি দখল, ব্যবসায়ীদের ভয় দেখানো থেকে শুরু করে সরকারি জমি বেচে দেওয়া— একের পর এক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরে বেড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু তখন কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। কারণ, অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিবাদ করলেই নেমে আসত মারধর, হুমকি, এমনকি পুলিশের হয়রানিও।

রুবি হাসপাতাল সংলগ্ন ইএম বাইপাসের ধারের ব্যবসায়ীরা এখন একযোগে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, কাউন্সিলর হওয়ার পর এলাকায় প্রায় ৫০০ দোকান ভেঙে ছোট আকারে পুনর্গঠন করা হয় এবং পরে সেখানে এক হাজারেরও বেশি দোকান তৈরি করা হয়। দোকানদার দীপক ব্যাপারীর অভিযোগ, পুরনো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নতুন করে জায়গা দেওয়ার নামে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়েছে। অতিরিক্ত দোকানও লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের কটাক্ষ, এতদিন যাঁর মুখে শোনা যেত “আমার মাথার ওপর বড় নেত্রীর হাত আছে, কেউ কিছু করতে পারবে না”, এখন নাকি সেই নেতারই খোঁজ মিলছে না এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর থেকেই সুশান্ত ঘোষ কার্যত গা ঢাকা দিয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েকজন অনুগামীও এলাকায় আর দেখা যাচ্ছেন না বলে অভিযোগ।

শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, অতীতে শাসকদলেরই কাউন্সিলর লিপিকা মান্না প্রকাশ্যে সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছিলেন। সেই ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিরোধীদের বক্তব্য, অভিযোগের পাহাড় এতদিন চাপা থাকলেও এখন একে একে সামনে আসছে বহু পুরনো কাহিনি।

এলাকার মানুষের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে জায়গা দখল করে তা প্রোমোটারদের হাতে তুলে দেওয়া, তোলাবাজি এবং নানা বেআইনি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের কোনও সরকারি প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি এবং সুশান্ত ঘোষও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।

রুবি সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যেই আনন্দপুর থানায় অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তবে তাঁদের দাবি, এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। অভিযোগের তীর পুলিশের একাংশের দিকেও। যদিও এই দাবিরও স্বাধীন যাচাই হয়নি।

এখন প্রশ্ন একটাই— অভিযোগের পাহাড় কি শুধুই রাজনৈতিক তরজার অস্ত্র, নাকি সত্যিই বেরিয়ে আসবে বহু বছরের চাপা থাকা দুর্নীতির কাহিনি? সেই উত্তর খুঁজছে গোটা এলাকা। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি স্পষ্ট— “ভয় নয়, এবার বিচার চাই।”


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *