ব্রিগেডের মঞ্চে রাজনৈতিক ভাষণ, স্লোগান আর কড়া আক্রমণের মাঝেই হঠাৎ এক মিষ্টি মুহূর্ত। আর সেই মিষ্টির কেন্দ্রেই এবার বিজেপির দুই নেতা—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ।
শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের সভায় বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে আলাপচারিতার মাঝেই দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হঠাৎই দিলীপ ঘোষের বাহু ধরে কিছু বলছেন। দুজনের সেই সংক্ষিপ্ত কথোপকথন মুহূর্তের মধ্যেই উপস্থিত নেতা-কর্মী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়ে নেয়। মঞ্চে দাঁড়িয়ে কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? তা নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় ফিসফাস।
পরে ফোনে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রহস্যের জট খুললেন দিলীপ ঘোষ নিজেই। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আসলে তার কাছে “বিয়ের মিষ্টি” চেয়েছেন। মোদী নাকি হাসতে হাসতেই বলেন, “বিয়ে করলে তো মিষ্টি খাওয়াতে হয়, সেই মিষ্টিটা খাওয়ালে না কেন?”
জবাবে দিলীপ ঘোষও রসিকতায় ভর দিয়েই উত্তর দেন। তার মন্তব্য, “আগে সরকার হোক, তারপর মিষ্টি পাঠাবো।” ফলে ব্রিগেডের মঞ্চে সেই মুহূর্তে রাজনীতি আর রসিকতা—দুটোই যেন পাশাপাশি চলছিল।
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মিষ্টি প্রসঙ্গ নিছকই খুনসুটি নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই বিজেপির অন্দরে দিলীপ ঘোষ অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন বলে দলীয় অন্দরেই আলোচনা ছিল। বিভিন্ন সভা বা বৈঠকে তার গুরুত্ব কমে গিয়েছিল বলেও রাজনৈতিক মহলে শোনা যায়।
কিন্তু ২০২৬ সালের বিধান নির্বাচন সামনে রেখে বিজেপি যে আবার দিলীপ ঘোষকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে, সেই ইঙ্গিতই দেখছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। আরএসএস ঘনিষ্ঠ এই নেতাকে আবার সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও ধীরে ধীরে তাকে সামনে আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে আলোচনা রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ব্রিগেডের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিলীপ ঘোষের সেই সংক্ষিপ্ত কথোপকথন অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। রাজনীতিতে অনেক সময় বড় ঘোষণা নয়, ছোট ইঙ্গিতই ভবিষ্যতের সমীকরণ বুঝিয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে দিলীপ ঘোষ বিয়ে করেছেন। সেই বিয়ের মিষ্টি নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর এই খুনসুটি রাজনৈতিক মহলেও হাসির খোরাক জুগিয়েছে। অনেকেই মজা করে বলছেন—বাংলার রাজনীতিতে এখন মিষ্টির চাহিদাও কিন্তু কম নয়!


