রাজনীতি আর বিনোদন—দুই জগতের সীমানা যখন মিশে যায়, তখন গুঞ্জনই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় খবর। সাম্প্রতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন রাঘব চাড্ডা, যিনি হঠাৎই আম আদমি পার্টি ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টি-তে যোগ দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন নভজোৎ কৌর সিধু। তাঁর দাবি, এই দলবদলের নেপথ্যে রয়েছেন বলিউড ও হলিউডে সমান দাপটের অধিকারী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। সম্পর্কের দিক থেকে তিনি পরিণীতি চোপড়া-র দিদি এবং সেই সূত্রেই রাঘবের ‘শ্যালিকা’।
নভজোৎ কৌরের বক্তব্য অনুযায়ী, আপের সঙ্গে রাঘবের সম্পর্ক নাকি ক্রমশ খারাপ হচ্ছিল। এমনকি তদন্তকারী সংস্থার চাপের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে পরিবারের স্বার্থে প্রিয়াঙ্কাই নাকি এগিয়ে এসে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সাহায্য করেন। যদিও এই দাবি সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক মহলের জল্পনা—এর পক্ষে কোনও প্রামাণ্য প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।
নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় রাঘব চাড্ডা অবশ্য সরাসরি আপের আদর্শচ্যুতি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম সত্ত্বেও দল এখন আর দেশের স্বার্থে কাজ করছে না, বরং ব্যক্তিস্বার্থই মুখ্য হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই তিনি নতুন রাজনৈতিক পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই ঘটনার জেরে সোশ্যাল মিডিয়াতেও বড় প্রভাব পড়েছে—রাঘবের লক্ষাধিক ফলোয়ার কমে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষের সুরও চড়েছে, বিশেষ করে নভজোত সিং সিধু-র পরিবারের তরফে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, সম্প্রতি সংসদে মধ্যবিত্তদের হয়ে বক্তব্য রাখার জন্য রাঘবের প্রশংসা করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া নিজেই। ফলে এই ‘প্রভাব তত্ত্ব’ ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, এটা স্পষ্ট—রাজনীতির ময়দানে দলবদল নতুন কিছু নয়, কিন্তু যখন তার সঙ্গে গ্ল্যামার জগতের সংযোগের ইঙ্গিত মেলে, তখন তা আরও বেশি করে জনমনে কৌতূহল তৈরি করে।


