ভোটপর্ব শেষ হতেই স্ট্রংরুম ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র আকার নিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে ভিডিওবার্তায় ইভিএম নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্টভাবে দলীয় কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেন এবং সম্ভাব্য কারচুপির আশঙ্কার কথাও তোলেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই বার্তার প্রতিফলন দেখা যায়—বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভবানীপুরের স্ট্রংরুমে পৌঁছে যান তিনি, সরাসরি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে।
অন্যদিকে, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র ঘিরে তৈরি হয় আলাদা উত্তেজনা। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ, শশী পাঁজা ও বিজয় উপাধ্যায় অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। তাঁদের অভিযোগ, স্ট্রংরুমের ভিতরে অস্বাভাবিক নড়াচড়া দেখা গিয়েছে এবং লাইভ ফিডেও কিছু কার্যকলাপ চোখে পড়েছে, যা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার মোড় ঘোরে যখন হঠাৎ করে স্ট্রংরুম খোলার সময়সূচি বদলের অভিযোগ ওঠে। কুণাল ঘোষ দাবি করেন, আগে থেকে উপস্থিত কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে নতুন করে সময় জানানো হলেও তাঁদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। একই সুরে প্রশ্ন তোলেন শশী পাঁজা—এত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় সব দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়নি কেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের তরফে ডিইও স্মিতা পাণ্ডে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁর উপস্থিতিতে তৃণমূল প্রতিনিধিরা স্ট্রংরুমে ঢুকলেও, তা ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। বিজেপি সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখিয়ে অভিযোগ তোলেন, একতরফা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রাতের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, কোনও দলের প্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে স্ট্রংরুমে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সেই আশ্বাস পাওয়ার পরই বিক্ষোভ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কুণাল ঘোষ।
এই গোটা ঘটনার প্রেক্ষিতে স্পষ্ট, ভোট মিটলেও লড়াই এখনও শেষ হয়নি—এবার নজর ফলাফলের আগেই নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা ঘিরে।


