মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি ক্রমেই বিস্ফোরক হয়ে উঠছে। সরাসরি যুদ্ধের ইঙ্গিত মিলছে আমেরিকার সাম্প্রতিক সামরিক প্রস্তুতি থেকে। ‘বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড’ নীতি নিয়ে এবার মাঠে নেমেছে ওয়াশিংটন। লক্ষ্য একটাই—হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং ইরানের তেল অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই মধ্য এশিয়ার দিকে রওনা দিয়েছে পাঁচ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা। শুধু সেনা মোতায়েনেই থেমে থাকছে না আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও। ফলে গোটা অঞ্চলে যুদ্ধের আশঙ্কা আরও ঘন হচ্ছে।
ইজরায়েলের এক শীর্ষ আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই সেনা সমাবেশ শুধুমাত্র শক্তি প্রদর্শন নয়। ইরানের বিরুদ্ধে বড়সড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে খার্গ দ্বীপ দখল করা গেলে ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে। কারণ, এই দ্বীপ থেকেই প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি করে তেহরান।
অন্যদিকে, পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানও। তাদের প্রতিরক্ষা পরিষদ জানিয়ে দিয়েছে, উপকূল বা কোনও দ্বীপে হামলা হলে পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ জুড়ে ল্যান্ডমাইন বিছিয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, পরিস্থিতি যে মুহূর্তে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তা স্পষ্ট।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ দেশটির তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। প্রতিদিন প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এখান থেকে বিদেশে পাঠানো হয়। পাশাপাশি রয়েছে বিশাল তেল ভাণ্ডার ও সামরিক ঘাঁটি। এই দ্বীপ হাতছাড়া হওয়া মানেই ইরানের অর্থনীতিতে চরম ধাক্কা—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


