নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা জোরদার—এই যুক্তি নতুন নয়। কিন্তু সেই নিরাপত্তার আড়ালে যদি একজন মহিলার ব্যক্তিগত সম্মান ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়, তাহলে তা আর প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকে না, হয়ে ওঠে সরাসরি অপমান। ঠিক এমনই এক শিউরে ওঠার মতো অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ।
রাতের শহর, শুটিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎই থামিয়ে দেওয়া হয় তাঁর গাড়ি। শুরু হয় নাকা-চেকিং। নিয়মের দোহাই দিয়ে একের পর এক প্রশ্ন, তারপর সরাসরি ব্যাগ তল্লাশি। অসুস্থতার কথা জানালেও কর্ণপাত করা হয়নি। বরং শোনা যায় কটূক্তি—“নাটক করবেন না।”
এরপর যা ঘটেছে, তা যেন একেবারেই অবিশ্বাস্য—রাস্তার মাঝখানে খুলে ফেলা হয় তাঁর ব্যাগ। বের করে দেখা হয় মেকআপ কিট, ওষুধ, জল—এমনকি অন্তর্বাস ও স্যানিটারি ন্যাপকিন পর্যন্ত। এক মুহূর্তে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভেঙে পড়ে জনসমক্ষে। প্রশ্ন উঠতেই পারে—এটা কি চেকিং, নাকি সরাসরি হেনস্থা?
শ্রীময়ীর ক্ষোভ স্পষ্ট—মহিলা পুলিশ ছাড়া এমন তল্লাশি কেন? একজন মহিলার শরীর, তাঁর ব্যক্তিগত জিনিস—সবই কি এতটাই সহজে প্রকাশ্যে টেনে আনা যায়?
এই ঘটনার পরেই রাজনৈতিক মহলেও বিস্ফোরণ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভা থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “চেকিংয়ের নামে মহিলাদের অপমান করা হচ্ছে। এটা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না।”
তিনি আরও দাবি করেন, একই ধরনের হেনস্থার শিকার হয়েছেন অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক-এর স্ত্রীও। নির্বাচনের আগে এই ধরনের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—এই অপমানের জবাব দেবে মানুষ, ভোটবাক্সেই।
একটার পর একটা অভিযোগ সামনে আসছে। প্রশ্নটা এখন আর একা শ্রীময়ীর নয়—প্রশ্নটা গোটা সমাজের। নিরাপত্তার নামে এই অপমান, এই লঙ্ঘন—আর কতদিন?


