রাত পেরোলেই রায়, প্রহর গুনছে বাংলা

Spread the love

ভোর এখনও ফোটেনি, কিন্তু ঘুম উড়েছে প্রশাসনের। গোটা রাজ্য যেন এক অদৃশ্য উত্তেজনায় টানটান—কারণ আর কয়েক ঘণ্টা পরেই খুলবে ভাগ্যের দরজা। প্রত্যাবর্তন, না পরিবর্তন—এই এক প্রশ্নেই থমকে বাংলা।

সোমবার সকাল ৮টা। ঠিক তখনই একসঙ্গে খুলবে ৭৮টি গণনাকেন্দ্রের দরজা। বাইরে তখন কড়া পাহারা—সাধারণ দিনের মতো নয়, বরং যেন দুর্গ। চারপাশে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজর, একের পর এক চেকপোস্ট, প্রতিটি প্রবেশপথে সতর্ক দৃষ্টি।

গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে নিস্তব্ধতা—না কোনও স্লোগান, না কোনও ভিড়। আইন যেন আগেই বলে দিয়েছে, আজ কোনও ঝুঁকি নয়। ভিতরে ঢুকতেও সহজ নয়—পরিচয়পত্র, কিউআর কোড স্ক্যান, সবুজ সিগন্যাল পেলেই তবেই অনুমতি।

কেন্দ্রের ভিতরে আরও কঠোর নিয়ম। মোবাইল নেই, অপ্রয়োজনীয় কিছু নেই—শুধু একটি কাগজ আর কলম। টেবিলের ওপারে বসে গণনাকর্মীরা, আর এক কোণে অপেক্ষা প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা—প্রতিটি রাউন্ডে বদলাবে মুখের অভিব্যক্তি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত—স্ট্রংরুম খোলা। সিল ভাঙার সেই দৃশ্যেই যেন জমে থাকে কয়েক মাসের উত্তেজনা। প্রার্থীদের উপস্থিতিতে একে একে বেরিয়ে আসবে ইভিএম, আর শুরু হবে গণনার আসল লড়াই।

বাইরে তখনও টানটান পরিস্থিতি। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ঘেরা প্রতিটি কেন্দ্র—প্রথমে স্থানীয় পুলিশ, তারপর মিশ্র বাহিনী, আর একেবারে ভিতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী। নজরদারি এমনই যে, ছোট্ট কোনও গণ্ডগোলেরও জায়গা নেই।

রাত পোহালেই শুধু ফল নয়, স্পষ্ট হবে বাংলার আগামী পাঁচ বছরের দিশা। তাই আজকের দিনটা শুধু গণনা নয়—এটা অপেক্ষা, উদ্বেগ আর ইতিহাস লেখার মুহূর্ত।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *