কলকাতা তো আগেই জেলা ছিল! তা হলে বাজেটে নতুন করে কেন এই ঘোষণা?

Spread the love

রাজ্যের বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে পাঁচটি নতুন জেলা গঠনের ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। প্রস্তাবিত জেলাগুলি হল কলকাতা, বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর এবং আরামবাগ। পাশাপাশি কাঁথিতে নতুন একটি পুলিশ জেলা তৈরির কথাও বলা হয়েছে। তবে এই ঘোষণার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি চর্চায় কলকাতা। কারণ, সাধারণ মানুষের অনেকেরই ধারণা ছিল কলকাতা তো আগেই একটি জেলা। তা হলে নতুন করে একে জেলা ঘোষণার প্রয়োজন কেন?

আসলে কলকাতা দীর্ঘদিন ধরেই জেলা হিসেবে চিহ্নিত হলেও প্রশাসনিক কাঠামোর দিক থেকে অন্যান্য জেলার মতো নয়। রাজ্যের অন্য জেলাগুলিতে একজন জেলাশাসক থাকেন, তাঁর অধীনে মহকুমা ও ব্লকস্তরের প্রশাসনিক ব্যবস্থা কাজ করে। সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের অভিযোগ-সমস্যার নিষ্পত্তি—সবকিছুই নির্দিষ্ট প্রশাসনিক স্তর মেনেই পরিচালিত হয়।

কিন্তু কলকাতার ক্ষেত্রে সেই কাঠামো কার্যত অনুপস্থিত। এখানে কোনও জেলাশাসক নেই। রয়েছেন একজন কালেক্টর, যাঁর প্রধান দায়িত্ব রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয় দেখা। রাজধানী হওয়ায় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর সরাসরি কাজ পরিচালনা করে। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভাও নাগরিক পরিষেবার বড় অংশ সামলায়। ফলে প্রশাসনিক দায়িত্ব বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিভক্ত হয়ে থাকে।

সরকারের দাবি, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। নতুন ব্যবস্থায় কলকাতায়ও জেলার মতো পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। জেলাশাসক নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর তৈরি হলে সরকারি কাজের গতি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষও নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিষেবা পেতে পারবেন।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, ভবিষ্যতে কলকাতা জেলার সীমানা বা পরিধিতেও পরিবর্তন আনা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।

সব মিলিয়ে, কলকাতা নামমাত্র জেলা থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশের দিকেই এগোচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর সেই কারণেই বাজেটে আলাদা করে কলকাতার নাম ঘোষণা করা হয়েছে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *