রাজ্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। মঙ্গলবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের পর তিনি দাবি করেন, বাজেটে বারবার কেন্দ্রের উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “এটি রাজ্যের বাজেট নাকি কেন্দ্রের বাজেট, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে।”
কুণাল ঘোষের অভিযোগ, বাজেটে একাধিক প্রকল্প ও ঘোষণা থাকলেও সেগুলির জন্য অর্থ কোথা থেকে আসবে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কেন্দ্রীয় বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হওয়া সত্ত্বেও রাজ্যের নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালিয়ে গিয়েছিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান বিজেপি সরকার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ও আয়ুষ্মান ভারত-এর মতো প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের বাছাই করছে। অন্যদিকে, তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে আবেদনকারীদের নির্বিশেষে সুবিধা দেওয়া হতো বলে দাবি করেন তিনি।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ভুয়ো সুবিধাভোগীর সংখ্যা ছিল বিপুল এবং পুরুষেরাও সেই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন।
তবে নতুন সরকারকে কিছুটা সময় দেওয়ার পক্ষেই মত প্রকাশ করেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, সরকার কীভাবে কাজ এগিয়ে নিয়ে যায়, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করা উচিত।
এদিকে, ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন আরও স্পষ্ট হয়েছে। সম্প্রতি দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, বর্তমানে বিধানসভায় তাদের সমর্থন বেড়ে প্রায় ৬৫ জন বিধায়কে পৌঁছেছে।


