রবিবার বিকেলে আচমকাই সিপিএমের রাজ্য দপ্তর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে হাজির হন টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সেখানে সিপিএমের প্রবীণ নেতা বিমান বসুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ও। স্বাভাবিকভাবেই ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক আবহে এই সফর ঘিরে শুরু হয় জোর জল্পনা।
এর আগে নির্বাচনের সময়ে সিপিএম প্রার্থী আফরিন বেগমের প্রসেনজিতের বালিগঞ্জের বাসভবনে যাওয়ার ঘটনা নিয়েও নানা আলোচনা হয়েছিল। ফলে অভিনেতার আলিমুদ্দিন সফর নিয়ে কৌতূহল আরও বাড়ে। তবে সূত্রের খবর, এই সাক্ষাতের নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক বার্তা নয়, রয়েছে তাঁর আসন্ন ছবি ‘অনেকদিন পর’-এর প্রচার।
আগামী ২৬ জুন মুক্তি পেতে চলেছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রযোজিত এই ছবি। পরিচালনায় রয়েছেন সৌরভ পালোধী, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে বামপন্থী ভাবধারার সমর্থক হিসেবে পরিচিত করে এসেছেন। জানা গিয়েছে, ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে আমন্ত্রণ জানাতেই বিমান বসুর সঙ্গে দেখা করতে আলিমুদ্দিনে যান প্রসেনজিৎ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পরিচালক সৌরভ পালোধীও।
শুধু বাম নেতৃত্বই নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদেরও এই ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। সেই তালিকায় রয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের মতো ব্যক্তিত্বও। ফলে ছবির প্রচারে রাজনৈতিক মহলের প্রতিনিধিদের এক মঞ্চে আনার এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
নির্বাচনী ফলাফলের আবহে রহস্যময় পোস্টের মাধ্যমে ‘অনেকদিন পর’ ছবির ঘোষণা করেছিলেন প্রসেনজিৎ। পরে অভিনব কায়দায় প্রকাশ্যে আসে ছবির পোস্টার ও ট্যাগলাইন। ‘অঙ্ক কী কঠিন’ খ্যাত পরিচালক সৌরভ পালোধীর সঙ্গে এই প্রথম ‘এনআইডিয়াস’-এর ব্যানারে কাজ করছেন তিনি। ছবিটিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলিউডের মহাতারকা অমিতাভ বচ্চনও।
সৌরভ পালোধী ও সৌমিত দেবের গল্পে তৈরি এই ছবিতে অভিনয় করেছেন চিত্রাঙ্গদা, শতরূপা ও বিমল গিরি। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন শঙ্কর দেবনাথ, দেবেশ রায়চৌধুরী, চন্দন সেন, সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিমল চক্রবর্তী। সিনেম্যাটোগ্রাফির দায়িত্বে অঙ্কিত সেনগুপ্ত, সঙ্গীত পরিচালনায় সপ্তক সানাই এবং সম্পাদনায় প্রণয় দাশগুপ্ত।
আলিমুদ্দিনে প্রসেনজিতের উপস্থিতি ঘিরে যে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছিল, আপাতত তাতে ইতি পড়েছে। বরং নতুন ছবির প্রচারে অভিনব কৌশল নিয়েই এখন চর্চা টলিপাড়া থেকে রাজনৈতিক মহল—সব জায়গাতেই।


