শহরের এক অভিজাত আবাসনে বসবাসকারী এক ব্যক্তি তাঁর প্রতিবেশীর ‘ইংরেজি-নির্ভর’ সন্তানের লালন-পালন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করার পর তা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র ভাষা ও সংস্কৃতিগত বিতর্ক। তিনি অভিযোগ করেন, ওই দম্পতি তাঁদের সন্তানকে কেবল ইংরেজি ভাষাতেই কথা বলতে শেখাচ্ছেন এবং পুরোপুরি উপেক্ষা করছেন তামিল বা কন্নড় ভাষা, যা বেঙ্গালুরুর মতো বহুভাষিক শহরে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর জন্য অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলেই তাঁর মত।
ওই ব্যক্তি লেখেন, “এই শহরের শিকড় তামিল ও কন্নড় ভাষায়। এখানে বেড়ে ওঠা একটি বাচ্চা যদি নিজের এলাকার ভাষা পর্যন্ত না বোঝে, তা হলে সেটা কেবল দুঃখজনকই নয়, চিন্তারও বিষয়।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। কেউ একে আখ্যা দিয়েছেন সাংস্কৃতিক বঞ্চনা, আবার কেউ বলেছেন, এটি একটি ব্যক্তিগত অভিভাবকসুলভ সিদ্ধান্ত, যেখানে সমাজের হস্তক্ষেপ অনুচিত।
অনেকেই মনে করছেন, শিশুদের শুধুমাত্র ইংরেজিতে বড় করে তোলা তাঁদের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, “ইংরেজি শেখা দরকার — তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু সেটার জন্য মাতৃভাষাকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া তো নয়। মাতৃভাষা না জানলে সে কীভাবে নিজের সংস্কৃতি বুঝবে?”
তবে পাল্টা যুক্তিও এসেছে অপরদিক থেকে। আধুনিক অভিভাবকদের একাংশের মতে, আজকের প্রতিযোগিতামূলক সমাজে ইংরেজি জানাটা প্রয়োজনের চেয়েও বেশি। অনেক বাবা-মা তাই তাঁদের সন্তানদের শুরু থেকেই ইংরেজি শেখাতে সচেষ্ট। তাঁদের যুক্তি — শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব তাঁদের, এবং বিশ্বজুড়ে যোগাযোগের একমাত্র কার্যকর ভাষা হল ইংরেজি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুরা শৈশবে একাধিক ভাষা শিখতে সক্ষম এবং এটা তাদের মানসিক বিকাশে সহায়কও বটে। শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানদের মাতৃভাষা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই অভ্যস্ত করে তোলা উচিত। এতে শিশুরা একদিকে যেমন নিজের শিকড় জানবে, তেমনি বিশ্বজুড়ে যোগাযোগেও দক্ষ হয়ে উঠবে।
এই ঘটনার সূত্র ধরে বেঙ্গালুরুর মতো বহুভাষিক শহরে আবারও উঠে এলো সেই পুরনো প্রশ্ন — আধুনিকতা ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টায় আমরা কি নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় বিস্মৃত হচ্ছি?


