পুলিশের খাওয়াদাওয়ার জন্য ৬৩ কোটির বিল! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের বাস্তব ছবি। পিসিবি-র অডিট রিপোর্ট ঘেঁটে বেরিয়ে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, নিরাপত্তার কাজে নিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের ‘খাবার’ খরচ দেখিয়ে ৬৩.৩৯ কোটি রুপি খরচ করেছে বোর্ড—তাও কোনও সঠিক হিসেব ছাড়াই।
এই আর্থিক অনিয়ম শুধু এখানেই থেমে নেই। করাচির হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে অনূর্ধ্ব-১৬ দলের জন্য তিন জন কোচকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বেআইনিভাবে, যাঁদের মোট বেতন বাবদ গিয়েছে ৫৪ লাখ রুপি। আবার ম্যাচ অফিসিয়ালদের ফি, মিডিয়া ডিরেক্টরের নামে মাসিক মোটা টাকা বিল, ভুয়ো ভ্যান ভাড়া, ডিজেল খরচ—সব মিলিয়ে হিসেবের গরমিল এতটাই যে, আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্নে বোর্ড এখন প্রবল অস্বস্তিতে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভিকে ঘিরে। তিনি যখন পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তখন বোর্ড থেকেই নেওয়া হয়েছে তাঁর ইউটিলিটি বিল, জ্বালানি ও বাসস্থান বাবদ প্রায় ৪১ লাখ রুপি।
অডিটর জেনারেলের এই বিস্ফোরক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পাকিস্তান জুড়ে। বোর্ড অবশ্য নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছে, কোনও “আইন লঙ্ঘন হয়নি”। তবে জাতীয় হিসাব বিভাগ ইতিমধ্যেই তদন্তের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে।
পিসিবি-র প্রশাসনিক দায়িত্ব এখন একের পর এক প্রশ্নের মুখে। রমিজ রাজা বিদায় নেওয়ার পর থেকে বোর্ডের দায়িত্বে যাঁরা এসেছেন—নাজাম শেঠি, জাকা আশরাফ, মোহসিন নকভি—তাঁদের আমলে দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড় জমলেও কাউকে এখনও জবাবদিহি করতে হয়নি।
এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে পাকিস্তানের ক্রিকেট ভবিষ্যৎ যে আরও অন্ধকারময়—তা বুঝে নিতে বিশেষ বোদ্ধা হওয়ার দরকার পড়ে না।


