গোপন নোটিশে বাংলার গলা টিপে ধরার ছক, রাজপথে প্রতিবাদের আগুন জ্বালালেন মমতা

Spread the love

কলকাতার রাজপথ যেন হঠাৎ জেগে উঠল বাংলা ভাষার অধিকারের দাবিতে। কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং—সাদা শাড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন হাঁটছেন, তখন তাঁর পায়ের শব্দ যেন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে দিল্লির দরবারে। কেন্দ্রীয় সরকারের সেই ‘গোপন বিজ্ঞপ্তি’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা বাংলাকে চুপ করানোর চেষ্টা, আমরা রুখে দাঁড়াবই।”

বিক্ষোভে তিনি শুধু রাজনৈতিক বার্তা দেননি, তুলে ধরেছেন সর্ব ধর্মের ঐক্যের ছবি। পাশে ছিলেন এক মুসলিম মৌলবী ও এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী। এক হাতে প্রতিবাদ, অন্য হাতে সম্প্রীতির পতাকা। তাঁর ভাষায়, “এ রাজ্যে আমরা সব ধর্মকে সম্মান করি, দিল্লি থেকে কেউ আমাদের ভাষা বা খাদ্য-সংস্কৃতি চালাতে আসবে না।”

মমতার অভিযোগ, নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাঙালিদের সন্দেহভাজন করে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর রাস্তা খোলা হচ্ছে। ভোটের আগে এটা একটা ‘প্ল্যানড’ চাল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। “বাংলায় কথা বললে এখন সন্দেহ হবে? আধার-প্যান কার্ড থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশি? তা হলে তো আমি নিজেও ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়ার জন্য তৈরি”—ব্যঙ্গের সুরে বললেন নেত্রী।

সঙ্গে হুঁশিয়ারি, “তোমরা বাংলা আটকে রাখতে পারবে না। বাংলা তার ভাষা, সংস্কৃতি আর আত্মসম্মান নিয়ে মাথা উঁচিয়ে বাঁচে।” এরপরই কেন্দ্রীয় সরকারের খাদ্য সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণের ভাবনার বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন তিনি। “শিঙাড়া খাব, ইডলি খাব, ধোসাও খাব—কে তুমি বলার?” তার বক্তব্য স্পষ্ট—“তোমাদের জার্সি গায়ে চাপিয়ে গোটা দেশ চালাতে দেব না।”

মিছিলের শেষে দাঁড়িয়ে মমতা বলেন, “এই লড়াই ভাষার, এই লড়াই আত্মপরিচয়ের। এবার কেউ আমাদের থামাতে পারবে না।”

কলকাতার রাজপথে সে দিন শুধু রাজনৈতিক স্লোগান ওঠেনি, সেখানে বাঙালিত্বের রক্তমাখা ব্যথাও ছিল। মমতার সেই রক্তাক্ত প্রতিবাদ আজ বাংলা জুড়ে এক নতুন প্রশ্ন তুলেছে—এই বাংলার গলা টিপে ধরার শেষ খেলা কি এবার শুরু হয়ে গেল?


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *