মৃত্যুর পরেও মানুষকে একসঙ্গে জড়ো করে রাখার ক্ষমতা সবার থাকে না। স্বপনসাধন বোস ওরফে টুটু বোস ছিলেন তেমনই এক চরিত্র। তাই তাঁর পারলৌকিক ক্রিয়ার দিন বালিগঞ্জের বোস বাড়িতে দেখা গেল এক অন্য ছবি। সেখানে শুধু শোক নয়, ছিল স্মৃতি, সম্পর্ক আর এক যুগের শেষ হয়ে যাওয়ার হাহাকার।
শুক্রবার সকাল থেকেই বোস বাড়ির সামনে বাড়তে থাকে ভিড়। কেউ এসেছেন ময়দানের পুরনো সম্পর্কের টানে, কেউ রাজনৈতিক সৌজন্যে, কেউ আবার ব্যক্তিগত ভালোবাসা থেকে। একসময় যাঁর ফোনেই ময়দানের বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত মিলত, সেই মানুষটিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হন ফিরহাদ হাকিম, তাপস রায়, কুণাল ঘোষদের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। রাজনৈতিক রং ভুলে সেদিন সকলের মুখেই ছিল একটাই নাম— টুটু বোস।
শুধু রাজনীতি নয়, ফুটবল দুনিয়ার বহু পরিচিত মুখও এদিন বোস বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি প্রফুল প্যাটেল থেকে শুরু করে ময়দানের একাধিক কর্তা, প্রাক্তন ফুটবলার ও ঘনিষ্ঠরা এসে পরিবারের পাশে দাঁড়ান। দেখা যায় বাম নেতা শতরূপ ঘোষকেও। এমনকি নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক মুখ শ্রেয়া পাণ্ডেও হাজির ছিলেন অনুষ্ঠানে।
অনেকের চোখেই জল। কেউ চুপচাপ দাঁড়িয়ে, কেউ পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরে স্মৃতি ভাগ করে নিচ্ছেন। কারণ টুটু বোস শুধু একজন ক্রীড়া সংগঠক ছিলেন না, তিনি ছিলেন ময়দানের অন্দরের এক প্রভাবশালী আবেগ। ক্লাব রাজনীতি, ফুটবল প্রশাসন কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক— সব জায়গাতেই তাঁর উপস্থিতি ছিল আলাদা।
ময়দানের করিডরে এখন আর শোনা যাবে না তাঁর দৃপ্ত হাঁটার শব্দ। তবু শেষ বিদায়ের দিন বোস বাড়ির ভিড় যেন বলে দিল, টুটু বোস নামটা এখনও বাংলার ফুটবল আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।


