বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক লড়াই। এই আবহেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি সমর্থনের বার্তা দিলেন শিবসেনার উদ্ধব শিবিরের প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। মহারাষ্ট্রের এক জনসভায় তিনি বলেন, “বাংলার বাঘিনী একাই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছে। এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁরই জয় হওয়া উচিত।”
বঙ্গ ভোটের আগে বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা ইতিমধ্যেই তৃণমূল নেত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। কংগ্রেস এবং বাম দলগুলিকে বাদ দিলে ইন্ডিয়া জোটের বেশিরভাগ শরিক দলই প্রকাশ্যে মমতার সমর্থনে সুর চড়িয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব আগেই মমতার পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং তাঁর স্ত্রী কল্পনা সোরেনও সরাসরি বাংলায় এসে তৃণমূলের হয়ে প্রচারে অংশ নিয়েছেন।
এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন উদ্ধব ঠাকরে। তাঁর বক্তব্য, বাংলার রাজনৈতিক লড়াই এখন মূলত বিজেপির বিরুদ্ধে মমতার লড়াই। সেই লড়াইয়ে মমতার দৃঢ়তা এবং লড়াকু মনোভাবের প্রশংসা করেন তিনি।
শুধু সমর্থনই নয়, একই সঙ্গে বিজেপিকেও তীব্র আক্রমণ শানান উদ্ধব। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিসের বাংলা সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। উদ্ধবের অভিযোগ, মহারাষ্ট্রে নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও সেগুলি সামলানোর বদলে অন্য রাজ্যে গিয়ে প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাংলায় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিও তাঁর সমালোচনার নিশানায় আসে। উদ্ধবের দাবি, এত বাহিনী নামিয়ে যদি বিজেপি জয় পায়, তবে পরে সেই জয়কে নিজেদের কৃতিত্ব বলে দাবি করবে। একই সঙ্গে তিনি মণিপুরের পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে সংঘর্ষ থামাতে এত বাহিনী দেখা যায়নি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও উদ্ধব ঠাকরের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। লোকসভা নির্বাচনের আগেও তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল। ভোটের পর তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মহারাষ্ট্রে গিয়ে উদ্ধবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ফলে ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে দুই নেতার এই ঘনিষ্ঠতা এবার বঙ্গ নির্বাচনের আগে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল বলে মনে করা হচ্ছে।


