আইপিএল ২০২৬–এর নিলামের আগে দলগুলো তাদের রিটেনশন ও রিলিজ তালিকা জমা দিয়েছে, আর সেই তালিকা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। আগামী মরসুমে কে কোন জার্সি গায়ে চাপাবেন, কার ভাগ্যে নতুন দিশা—সব মিলিয়ে উত্তেজনায় ফুটছে ক্রিকেটমহল।
চেন্নাই সুপার কিংস এ বার প্রায় অর্ধেক দলই বদলে ফেলল। দীর্ঘদিনের স্তম্ভ রবিশ্রুত জাদেজাকে ছেড়ে দিয়েছে তারা। পথিরানা, কনওয়ে, রাচিন, স্যাম কারনের মতো তারকারাও আর হলুদ জার্সিতে দেখা যাবে না। বদলে তারা ভরসা রেখেছে রুতুরাজ, ব্রেভিস, ধোনি, আর সবচেয়ে বড় সংযোজন—সঞ্জু স্যামসনকে বড় ট্রেডে দলে তুলে নিয়েছে চেন্নাই। এই পরিবর্তন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—নতুন করে দল সাজিয়ে আবার শিরোপার দৌড়ে ফিরতে চাইছে সিএসকে।
কলকাতা নাইট রাইডার্স বরং বিপরীত পথে হাঁটল। অনেককেই ধরে রেখে কোর গ্রুপ মজবুত করল তারা। সুনীল নারিন, রিঙ্কু সিংহ, বরুণ চক্রবর্তী—সবাই থাকছেন। তবে আন্দ্রে রাসেল, ভেঙ্কটেশ আইয়ার, কুইন্টন ডি ককের মতো নাম আর থাকছেন না—যা নিঃসন্দেহে বড় চমক। খালি হওয়া পার্সেই বোঝা যাচ্ছে, বড় শপিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে কেকেআর।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ তাদের চ্যাম্পিয়নশিপ-দাবিদার স্কোয়াড থেকে খুব বেশি ছেদ না করেই তুলে রেখেছে ট্রাভিস হেড, অভিষেক শর্মা, ক্লাসেন, কমিন্সদের। তবে মোহাম্মদ শামিকে ছেড়ে দেওয়ায় নতুন ভারসাম্য তৈরি হবে বোলিংয়ে। লখনউ সুপার জায়ান্টস শামিকে দলে টেনে বড় চমক দিয়েছে। নিকোলাস পুরান, মায়াঙ্ক যাদব, আর্শদীপদের রেখে তারাও তৈরি হচ্ছে নতুন লড়াইয়ের জন্য।
গুজরাট টাইটান্স বরাবরের মতোই শান্ত। শুভমন গিল, রশিদ খান, রবাড়া, বাটলার—সবাই থাকছেন। দলটিকে খুব বেশি না নেড়েচেড়ে তারা স্থির বার্তা দিয়েছে—পরিবর্তনের থেকে ধারাবাহিকতাই তাদের শক্তি। পঞ্জাব কিংসও প্রায় একই পথে। আর্শদীপ, শশাঙ্ক, শ্রেয়স আইয়ার, চাহাল—সবাইকে রেখে বাড়তিই করেছে স্থিরতা।
সব মিলিয়ে আইপিএল ২০২৬–এর রিটেনশন ও রিলিজ তালিকা ইঙ্গিত দিচ্ছে আরও আক্রমণাত্মক, আরও প্রতিযোগিতামূলক মরসুমের। কারা বাজিমাত করবে আর কারা নতুন দিশা খুঁজবে—এখন অপেক্ষা শুধু নিলামের দিনের।


