পাটনার অলিতে-গলিতে জোর গুঞ্জন। দশমবার মুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে বসার কয়েক মাসের মধ্যেই নাকি ইস্তফা দিতে পারেন তিনি। শোনা যাচ্ছে, রাজ্যসভার সদস্য হয়ে দিল্লির রাজনীতিতে বেশি সময় দেওয়ার কথা ভাবছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি, তবু রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
সূত্রের খবর, শারীরিক কারণে প্রশাসনিক ধকল নেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে উঠছে। তাই মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে সংসদের উচ্চকক্ষে যাওয়ার পরিকল্পনা চলছে বলেই দাবি। বিহারের পাঁচটি রাজ্যসভা আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৫ মার্চ। তার আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় আলোচনা অবশ্য তাঁর ছেলে নিশান্ত কুমার-কে ঘিরে। সদ্যই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জনতা দল ইউনাইটেড-এ যোগ দিয়েছেন। এতদিন সম্পূর্ণভাবে প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকা নিশান্ত হঠাৎ সক্রিয় হওয়ায় নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছেন অনেকে। গুঞ্জন, তিনি সরাসরি উপমুখ্যমন্ত্রী পদে বসতে পারেন।
বিহারের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন দলই পরবর্তী প্রজন্মকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে। তবে এতদিন সেই ধারার বাইরে ছিল জনতা দল ইউনাইটেড। নীতীশ নিজেও পরিবারতন্ত্রের বিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন। ফলে এই সম্ভাবনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি তিনিও শেষ পর্যন্ত ছেলেকেই উত্তরসূরি হিসেবে তুলে ধরছেন?
অন্যদিকে, দলের শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি পাটনা থেকে দিল্লিতে গিয়েছেন, ফলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জোটসঙ্গী ভারতীয় জনতা পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কুরসির দিকে নজর রেখেছে। সুযোগ এলে কি তাদের কোনও নেতা সেই পদে বসবেন—সেই প্রশ্নও ঘুরছে রাজনৈতিক অন্দরে।
আরও একটি সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। নিশান্তকে আপাতত রাজ্যসভায় পাঠিয়ে কিছুদিন পরে তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসানো হতে পারে।
সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সবই জল্পনা। তবে বিহারের রাজনীতিতে শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলে দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে। এবারও কি তেমনই কোনও বড় সিদ্ধান্ত সামনে আসতে চলেছে, সেটাই এখন দেখার।


