মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহ ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে গোটা বিশ্বে। সেই সংঘাতের জেরে ভারতে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকারের কেন্দ্র। সূত্রের খবর, এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এছাড়াও সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীকে।
গত প্রায় ১৩ দিন ধরে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সংঘাত চলতে থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের আবহে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। ব্যতিক্রম হিসেবে কেবল রাশিয়া এবং চিনের জাহাজ চলাচলকে অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে ভারতে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস সরবরাহের পথ হঠাৎই বাধাপ্রাপ্ত হয়। তার জেরেই ধীরে ধীরে দেশে গ্যাস সংকট মাথাচাড়া দিতে শুরু করে।
এই পরিস্থিতিতে গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক—দুই ধরনের গ্যাসের দামই একধাক্কায় বাড়ানো হয়েছে। দাম বাড়ার পাশাপাশি অনেক জায়গায় বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে হোটেল ও রেস্তরাঁ শিল্পেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। রান্নার গ্যাস বুকিং করতেও সাধারণ মানুষকে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। অতিরিক্ত মজুত রুখতে বুকিংয়ের ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
গ্যাসের খরচ বাঁচাতে অনেক পরিবার এখন ইনডাকশন চুলা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক রান্নার যন্ত্রের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে বাজারে এসব যন্ত্রের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে গঠিত এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল তৈরি করবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা চালানো হবে। শুধু তাই নয়, জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের সঙ্গেও সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনা চালাবে এই কমিটি।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কমিটির একাধিক বৈঠক হয়েছে। জানা গিয়েছে, ভারতমুখী জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের বিষয়ে তেহরান ইতিমধ্যেই নীতিগত সম্মতি দিয়েছে। পাশাপাশি ইরানে আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র।


