ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদে বসেই কঠোর বার্তা দিলেন মোজতবা খামেনেই। প্রথম ভাষণেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, হরমুজ প্রণালী খোলার কোনও সম্ভাবনা নেই। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সমস্ত সামরিক ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি তুলেছেন তিনি। সেই দাবি না মানা হলে ওই ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালানো হবে বলেও সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার।
সম্প্রতি যুদ্ধের প্রথম দিনেই আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই। তাঁর মৃত্যুর পর দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেইকে। দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিলেন তিনি।
তবে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে দেখা যায়নি নতুন সুপ্রিম লিডারকে। বৃহস্পতিবার তাঁর লেখা বার্তা ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পড়ে শোনানো হয়। সেই বার্তাতেই আন্তর্জাতিক মহলের উদ্দেশে কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দেন মোজতবা।
তিনি জানান, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবেই ব্যবহার করবে ইরান। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আপাতত বন্ধই থাকবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যে সব সামরিক ঘাঁটি রয়েছে সেগুলি দ্রুত গুটিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় ওই ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
শুধু তাই নয়, যুদ্ধের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার জন্য শত্রুদের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে বলেও দাবি করেছেন মোজতবা খামেনেই।
এদিকে সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারই হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতমুখী জাহাজ চলাচলে সীমিত অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নতুন সুপ্রিম লিডারের এই কঠোর অবস্থানের পর আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে ভারতীয় বা ভারতমুখী জাহাজ চলাচল আবারও বাধার মুখে পড়বে কি না।
ইরানের রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রয়াত আলি খামেনেইয়ের তুলনায় দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে মোজতবা খামেনেইয়ের সম্পর্ক অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ। ফলে তাঁর নির্দেশে ইরানের সামরিক অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।


