২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই তালিকা ঘোষণা করেন এবং স্পষ্ট করে দেন, এবারের লড়াই শুধু ক্ষমতা ধরে রাখার নয়, বরং ‘বাংলার সম্মান’ রক্ষারও। প্রায় সব আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে দল, মাত্র কয়েকটি আসন মিত্রদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় পুরনো ও নতুন মুখের মিশ্রণ চোখে পড়ার মতো। একদিকে অভিজ্ঞ নেতাদের ওপর ভরসা রাখা হয়েছে, অন্যদিকে একঝাঁক নতুন প্রার্থীকে সুযোগ দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে দল পরিবর্তনের দিকেও নজর দিচ্ছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মহিলা প্রার্থী এবং সংরক্ষিত শ্রেণির প্রতিনিধিত্বও এই তালিকায় গুরুত্ব পেয়েছে, যা সামাজিক ভারসাম্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নিজের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর থেকেই লড়াই করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে সামনে রেখে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছোঁড়া হয়েছে বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিকে, ফলে এই আসন আবারও রাজ্যের সবচেয়ে চর্চিত লড়াই হয়ে উঠতে চলেছে।
তবে শুধু চমক নয়, তালিকায় বাদ পড়ার ঘটনাও কম নেই। একাধিক পুরনো এবং হেভিওয়েট নেতাকে এবার টিকিট দেওয়া হয়নি, যা দলের অন্দরে বড়সড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পারফরম্যান্স এবং জনসংযোগ—এই দুই মাপকাঠিকেই এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে এই প্রার্থী তালিকা যে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন নজর থাকবে বিরোধীদের পাল্টা কৌশল এবং ময়দানের লড়াই কোন দিকে মোড় নেয় তার ওপর।


