এক্সিট পোলের ভবিষ্যদ্বাণী আর বাস্তব ফলাফলের ফারাক—এই অভিজ্ঞতা থেকেই আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল। অতীতের পরিসংখ্যান টেনে শাসকদল স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, সমীক্ষার উপর ভরসা করার কোনও কারণ নেই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অধিকাংশ এক্সিট পোল বিজেপির সরকার গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু ফল প্রকাশের দিন চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে রেকর্ড সংখ্যক আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফেরে তৃণমূল কংগ্রেস।
একই চিত্র দেখা গিয়েছিল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও। বহু সমীক্ষক সংস্থা এনডিএ-র ‘৪০০ পার’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিপুল জয়ের পূর্বাভাস দিলেও, বাস্তবে সেই লক্ষ্যের কাছাকাছিও পৌঁছতে পারেনি শিবির। নরেন্দ্র মোদি-র নেতৃত্বে এনডিএ সরকার গড়লেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে বেশ কিছুটা দূরেই থামতে হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও একই সুর শোনা যাচ্ছে তৃণমূলের অন্দরে। শাসকদলের একাংশের দাবি, এক্সিট পোলের ফল যাই হোক না কেন, মাটির বাস্তবতায় চতুর্থবার সরকার গঠন প্রায় নিশ্চিত। শুধু আগের শক্তি ধরে রাখাই নয়, বিজেপির দখলে থাকা একাধিক আসনেও নিজেদের প্রভাব বাড়াবে তৃণমূল—এমনটাই বিশ্বাস তাদের।
দলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষ এক্সিট পোলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায়, অতীতেও এই সমীক্ষাগুলি বিজেপিকে এগিয়ে দেখিয়েছে, কিন্তু বাস্তব ফলাফলে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। ফলে এবারের ক্ষেত্রেও এক্সিট পোলের সঙ্গে বাস্তবের মিল হবে না বলেই দাবি শাসকদলের।
তৃণমূল সূত্রের খবর, বুথ ফেরত সমীক্ষায় বিজেপিকে এগিয়ে দেখালেও তা নিয়ে দলীয় মহলে কোনও সংশয় নেই। বরং নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখে চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরার ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ঘাসফুল শিবির।


