কামদুনি থেকে কার্যালয়—প্রতিবাদের আগুনে রাজনীতির পথে টুম্পা কয়াল, ভোটের অঙ্কে নতুন সমীকরণ

Spread the love

২০১৩-র ক্ষোভ, রক্ত আর প্রতিবাদের স্মৃতি বুকে নিয়েই অবশেষে রাজনীতির ময়দানে পা রাখলেন কামদুনির প্রতিবাদী মুখ টুম্পা কয়াল। রবিবার সল্টলেকের বিজেপি রাজ্য কার্যালয়ে লকেট চট্টোপাধ্যায়-এর হাত থেকে গেরুয়া পতাকা তুলে নিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন—এবার লড়াই রাস্তায় নয়, সরাসরি রাজনৈতিক মঞ্চে।

যোগদানের সঙ্গে সঙ্গেই জল্পনা তুঙ্গে—আসন্ন বিধানসভা ভোটে কি প্রার্থী হবেন টুম্পা? যদিও ভারতীয় জনতা পার্টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি, কিন্তু অন্দরে অন্দরে তাঁর নাম ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়ে গেছে।

টুম্পার কথায় উঠে এসেছে অতীতের লড়াইয়ের যন্ত্রণা—২০১৩ সালে কামদুনির নারকীয় ঘটনার পর যখন ন্যায়বিচারের আশায় কলকাতা হাই কোর্ট-এর দ্বারস্থ হয়েও হতাশ হতে হয়েছিল, তখনই সুপ্রিম কোর্ট-এ যাওয়ার পথ দেখিয়েছিল বিজেপি। তাঁর দাবি, সেই সময় থেকেই বিজেপি তাঁদের পাশে ছিল। নারী সুরক্ষা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজেপিকেই সবচেয়ে শক্তিশালী বলেই মনে করছেন তিনি।

কামদুনি কাণ্ড শুধু একটি অপরাধ ছিল না, তা হয়ে উঠেছিল গোটা বাংলার প্রতিবাদের প্রতীক। সেই আন্দোলনের সামনের সারির মুখ টুম্পা কয়াল ও মৌসুমী কয়াল বহুদিন ধরেই রাজনীতির বাইরে থেকে লড়াই চালিয়ে এসেছেন। কিন্তু বাস্তবতা বুঝেই টুম্পা আগেই জানিয়েছিলেন—রাজনীতির ভিতরে না ঢুকলে এই লড়াইকে আরও দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন।

সূত্র বলছে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-এর সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠকেই রাজনৈতিক ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরি হয়। ২২ মার্চ সল্টলেকের সেই বৈঠকের পরই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় তাঁর গেরুয়া শিবিরে যোগদানের সিদ্ধান্ত।

এখন নজর একটাই—প্রতিবাদের প্রতীক টুম্পা কয়াল কি ভোটের ময়দানে বিজেপির নতুন মুখ হয়ে উঠবেন? বাংলার রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ যে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *