নিউটাউনে দলীয় সভা থেকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের একের পর এক নথি খতিয়ে দেখতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।
সভামঞ্চ থেকে শুভেন্দু বলেন, “কী ভয়ঙ্কর দুর্নীতি হয়েছে। যেখানে হাত দেওয়া হচ্ছে, সেখান থেকেই পচা দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে জেল বানাতে হবে।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আগে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পেতেন। কিন্তু তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, ২৭ লক্ষ উপভোক্তার নাম ভোটার তালিকায় নেই। সিএএ-র আবেদনকারীদের বাদ দিয়েও এই সংখ্যা পাওয়া গিয়েছে বলে তাঁর দাবি।
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, ৩ লক্ষ পুরুষও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন, যদিও প্রকল্পটি মূলত মহিলাদের জন্য। শুভেন্দুর দাবি, শুধু মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ব্লকেই প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পুরুষ এই সুবিধা পেয়েছেন। একইসঙ্গে কৃষ্ণনগরের একটি অঞ্চলে ২৭৩ জন পুরুষের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। এমনকি পুরুষদের বিধবা ভাতাও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর চালু হওয়া অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও কথা বলেন শুভেন্দু। ১৩ পাতার আবেদনপত্র নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার জবাবে তিনি বলেন, “আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছি। আগামী ৫০ বছরের জন্য বাংলার ডাটা ব্যাঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে।”
সভা থেকে তৃণমূলের আরেকটি অভিযোগেরও জবাব দেন তিনি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যবাসীর আমিষ খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে বলে যে প্রচার করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে ‘মা আহার’ প্রকল্পে সপ্তাহে দু’দিন মাছ-ভাত পরিবেশন করা হবে। তাঁর কটাক্ষ, তৃণমূল নেতারাও সেই মাছ-ভাত খেতে আসবেন।


