অভয়া-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে ছবি তৈরির জল্পনা বহুদিন ধরেই চলছিল। সেই জল্পনায় কার্যত সিলমোহর পড়েছিল পরিচালক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের ‘তিলোত্তমা’ ঘোষণার পর। কিন্তু ছবির আনুষ্ঠানিক সূচনার আগেই ঘটল নাটকীয় মোড়। যে সাংবাদিক বৈঠকে ‘তিলোত্তমা’র নানা দিক তুলে ধরার কথা ছিল, সেখান থেকেই জানিয়ে দেওয়া হল— এই মুহূর্তে আর হচ্ছে না সেই ছবি। পরিবর্তে সামনে এল নতুন প্রকল্প, ‘হীরক রানীর দেশে’।
মঙ্গলবার মধ্য কলকাতার একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল অভয়ার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথের। কিন্তু অনুষ্ঠানে তিনি অনুপস্থিত থাকেন। এরপরই নির্মাতাদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, ‘তিলোত্তমা’ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
কেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত? সেই প্রশ্নের জবাবে পরিচালক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় খুব বেশি বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যেতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, ছবিটি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মত পরিবর্তন করেছেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, অভয়ার পরিবারের পূর্ণ সম্মতি না পাওয়াও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। একজন মায়ের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়েই তিনি এই প্রকল্প থেকে সরে এসেছেন বলে দাবি পরিচালকের।
তবে ‘তিলোত্তমা’ বন্ধ হলেও থেমে থাকছেন না উজ্জ্বল। নতুন ছবি ‘হীরক রানীর দেশে’-র ঘোষণা করেছেন তিনি। পরিচালকের কথায়, এটি একটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গধর্মী ছবি, যেখানে সমকালীন বাস্তবতার প্রতিফলন থাকবে অন্য আঙ্গিকে।
এই ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ জয়াপ্রদা। দীর্ঘদিন পর বাংলা ছবিতে ফিরছেন তিনি। ‘হীরক রানী’র ভূমিকায় দেখা যাবে বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রীকে। ছবিতে আরও রয়েছেন বাদশা মৈত্র, রাজনন্দিনী পাল, ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়, অমৃতা চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক পরিচিত মুখ।
যদিও নিজের চরিত্র নিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ জয়াপ্রদা। তিনি শুধু জানিয়েছেন, বাংলা ছবিতে কাজ করার সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত এবং ছবিটি নিয়ে যথেষ্ট উৎসাহী।
পরিচালকের দাবি, জুন মাস থেকেই শুরু হবে ছবির শুটিং। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী পুজোতেই মুক্তি পেতে পারে ‘হীরক রানীর দেশে’। ফলে অভয়া-কাণ্ডের প্রেক্ষাপটে যে ছবিকে ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছিল, তার জায়গায় এখন নজর নতুন রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রের দিকে।


