EXCLUSIVE : খাল বুজিয়ে রেস্টুরেন্ট ? কামালগাজির ‘কোলকাতা ধাবা’ ঘিরে বিতর্কে রাজনীতি

Spread the love

নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার ইএম বাইপাস সংলগ্ন কামালগাজি ও ঢালাই ব্রিজের মধ্যবর্তী এলাকায় ‘কোলকাতা ধাবা’কে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, গত দেড় দশকে এলাকার খাল, জলনিকাশি ব্যবস্থা এবং জলাভূমির অংশ বিশেষ ভরাট করে একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই দীর্ঘদিন এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, ‘কোলকাতা ধাবা’ নামে পরিচিত রেস্তোরাঁটি এমন এক জায়গায় নির্মিত হয়েছে, যা একসময় এলাকার জলনিকাশির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। বর্তমানে আধুনিক সাজসজ্জায় সজ্জিত এই রেস্তোরাঁয় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বিপুল ভিড় দেখা যায়। অভিযোগ উঠেছে, ধাবার সামনে অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি ও বাইক পার্কিংয়ের ফলে যান চলাচলেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের খবর মেলেনি বলে দাবি স্থানীয়দের।

এলাকার কিছু বাসিন্দার অভিযোগ, ধাবার মালিক মিঠু ওরফে ইশরাফিল সরদার অতীতে সোনারপুর উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম ও নজরুল মণ্ডলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে তোলাবাজি, পুকুর ভরাট ও দখলদারির অভিযোগ উঠেছিল। তবে এই বিষয়ে বারুইপুর জেলার পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্টের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে স্থানীয় এক ব্যক্তি। তবে ইশরাফিল সরদারের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ধাবা কর্তৃপক্ষের এক প্রতিনিধি রাজা দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট জমি ব্যবহারের জন্য তাঁদের কাছে বৈধ নথিপত্র রয়েছে।

বিতর্কে রাজনৈতিক রংও স্পষ্ট। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তৎকালীন তৃণমূল নেতৃত্বের প্রভাবেই এলাকায় বিভিন্ন অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক দেবাশীষ ধর বলেন, “জমিটি কেএমডিএ-র বলে জানি। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবুও আমি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে তার তদন্ত হওয়া উচিত।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে কেএমডিএ, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে। এখন দেখার, প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে বিতর্কের প্রকৃত চিত্র কতটা সামনে আসে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *