তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অস্বস্তি আরও বাড়ল। ২০২১ সালের ত্রিপুরা-সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁকে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে খোয়াই আদালত। সেই সমন আলিপুর আদালতের মাধ্যমে তাঁর কলকাতার বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সমন সরাসরি অভিষেকের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল। তিনি বর্তমানে দিল্লিতে থাকায় নোটিস গ্রহণ করেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। পরে পুলিশের তরফে আদালতের নির্দেশ পালনের বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের আগস্ট মাসে। ত্রিপুরায় দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে তৃণমূলের কয়েকজন যুবনেতাকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সময় দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা এবং জয়া দত্তের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হওয়া দলীয় কর্মীদের মুক্তির দাবিতে খোয়াই থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ-সহ তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ।
পুলিশের দাবি, ওই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতেই এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালতে হাজিরার সমন জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি তদন্তেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উঠে এসেছে। সেই মামলায় সিআইডির জারি করা একাধিক সমনে তিনি হাজিরা দেননি। তৃণমূলের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তের নামে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যদিও তদন্তকারী সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আদালতে হাজিরা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।


