বিশ্ব অর্থনীতির দৌড়ে আবার এক ধাপ পিছিয়ে গেল ভারত। সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী, ভারতের অবস্থান এখন ষষ্ঠ। কয়েক মাস আগেই যেখানে চতুর্থ বা পঞ্চম স্থানে ওঠার আশা তৈরি হয়েছিল, সেখানে এই পতন নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় কারণ হল জিডিপির সংশোধিত হিসাব এবং ডলারের তুলনায় টাকার দুর্বলতা। অর্থাৎ দেশের ভেতরে উৎপাদন বা পরিষেবা বৃদ্ধির গতি থাকলেও, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারে মূল্য নির্ধারণের সময় সেই শক্তি পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না। ফলে কাগজে-কলমে অর্থনীতির আকার কিছুটা ছোট দেখাচ্ছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির তালিকায় প্রথমে রয়েছে আমেরিকা, তার পরেই চিন। এরপর জার্মানি, জাপান ও ব্রিটেন জায়গা ধরে রেখেছে। এই পাঁচ দেশের পরেই ভারতের অবস্থান, যার মোট অর্থনীতির আকার প্রায় ৩.৯২ ট্রিলিয়ন ডলার। ফলে সামান্য ব্যবধানেই ভারত পিছিয়ে পড়েছে।
একটা সময় আশা করা হচ্ছিল, খুব দ্রুত ব্রিটেনকে টপকে ভারত চতুর্থ স্থানে উঠে যাবে। কিন্তু বর্তমান রিপোর্ট বলছে, সেই পথটা একটু ধীর হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে জিডিপির গতি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম থাকায় এই প্রভাব পড়েছে।
তবে পুরো ছবিটা নেতিবাচক নয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখনও শক্তিশালী। ২০২৭ সালের মধ্যে আবারও ব্রিটেনকে টপকে এগোনোর সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ২০২৮ সালের মধ্যে জাপানকেও ছাপিয়ে আরও উপরে উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
অর্থাৎ সাময়িক ধাক্কা এলেও, দৌড় থেকে ছিটকে যায়নি ভারত। বরং গতি কিছুটা কমেছে, কিন্তু লক্ষ্য এখনও একই—বিশ্ব অর্থনীতির শীর্ষে জায়গা করে নেওয়া।


