তৃণমূলের দুর্গ রক্ষা না বিজেপির দখল? কলকাতা পোর্টে নজর গোটা রাজ্যের

Spread the love

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতা পোর্ট কেন্দ্র আবারও রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। টানা চতুর্থবারের মতো বিধায়ক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ভোটের ময়দানে নেমেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ফিরহাদ হাকিম। তাঁর সামনে এবার বিজেপির রাকেশ সিংয়ের কঠিন চ্যালেঞ্জ।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা হিসেবে রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন ফিরহাদ হাকিম। বর্তমানে তিনি রাজ্যের নগর উন্নয়ন, পৌর বিষয়ক এবং আবাসন দপ্তরের মন্ত্রী। প্রশাসন ও সংগঠন—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর প্রভাব স্পষ্ট।

রাজনীতিতে তাঁর যাত্রা শুরু কলকাতা পুরসভা থেকে। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর সময় থেকেই তিনি সংগঠনের ভেতরে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ২০০৯ সালে আলিপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর উত্থান আরও দ্রুত হয়। ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর কলকাতা পোর্ট কেন্দ্র থেকে জিতে তিনি মন্ত্রিসভায় জায়গা পান এবং ধীরে ধীরে রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী মন্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন।

তবে তাঁর রাজনৈতিক পথ পুরোপুরি মসৃণ ছিল না। নারদ স্টিং অপারেশন মামলায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ফিরহাদ হাকিম অবশ্য বরাবরই এই অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। মামলাগুলি এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে একটি বিদেশি সংবাদপত্রে প্রকাশিত সাক্ষাৎকার নিয়েও বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেখানে তাঁর কেন্দ্রকে ‘মিনি পাকিস্তান’ বলা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর বক্তব্য বিকৃত করে তুলে ধরা হয়েছে।

রাজনীতির বাইরে তিনি ‘ববি’ নামেই বেশি পরিচিত। অস্ট্রেলিয়ার এক প্রাক্তন ক্রিকেটারের নাম অনুসারে তাঁর বাবা এই ডাকনাম রেখেছিলেন। কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টে আইন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন তাঁর বাবা।

কালীঘাট হাই স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর তিনি বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার চেতলায় বসবাস করেন তিনি।

২০২৬ সালের নির্বাচনে কলকাতা পোর্ট কেন্দ্র তাই শুধু একটি আসন নয়—এটি হয়ে উঠেছে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখার লড়াই এবং বিজেপির কাছে একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *