শিল্পের হাল ফেরাতে টাটার দরজায় যাবে সরকার, ঘোষণা তাপসের

Spread the love

শিল্প দপ্তরের দায়িত্ব নিয়েই বড় বার্তা দিলেন রাজ্যের নতুন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে একসময় চলে যাওয়া শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে ফেরানোর কথা ঘোষণা করে তিনি জানালেন, টাটা গোষ্ঠীকে আবার বাংলায় বিনিয়োগে রাজি করানো তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার।

মঙ্গলবার দপ্তরের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাপস রায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে ফের শিল্প ও বিনিয়োগের মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। আর সেই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজন হলে শিল্পপতিদের কাছে নিজে গিয়ে আবেদন জানাতেও তিনি প্রস্তুত। টাটা গোষ্ঠীর প্রসঙ্গ টেনে তাঁর মন্তব্য, “টাটাকে রাজ্যে আনতেই হবে। আজ রতন টাটা বেঁচে থাকলে তাঁর কাছে গিয়ে হাতজোড় করে অনুরোধ করতাম, বাংলায় বিনিয়োগ করুন। টাটাদের সদর দপ্তরে গিয়ে দেখা করব। শুধু টাটা নয়, যাঁরা রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তাঁদেরও ফেরানোর চেষ্টা করব।”

শিল্পমন্ত্রীর দাবি, গত কয়েক বছরে নানা কারণে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিনিয়োগের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শিল্পোন্নয়নের পরিবর্তে অন্য বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় বহু সংস্থা রাজ্য ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়েছে। সেই পরিস্থিতি বদলে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাই এখন সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

তাপস রায়ের এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই আবার সামনে চলে এসেছে সিঙ্গুর প্রসঙ্গ। বামফ্রন্ট আমলে ন্যানো কারখানা গড়তে সিঙ্গুরে এসেছিল টাটা মোটরস। জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ আন্দোলন, রাজনৈতিক সংঘাত এবং আইনি লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত প্রকল্প গুটিয়ে গুজরাতে চলে যায় টাটা। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জমি কৃষকদের ফেরত দেওয়া হলেও শিল্পায়নের সেই অধ্যায় আর নতুন করে শুরু হয়নি।

এখন প্রশ্ন, টাটা গোষ্ঠীকে ফেরানোর উদ্যোগ কি সিঙ্গুরকে কেন্দ্র করেই হবে? সেই বিষয়ে অবশ্য স্পষ্ট কোনও ইঙ্গিত দেননি শিল্পমন্ত্রী। তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ফেরানো এবং বিনিয়োগ টানার প্রশ্নে টাটা গোষ্ঠীকে প্রতীকী ও বাস্তব—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।

তাপস রায়ের ঘোষণার পর সিঙ্গুরেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একসময় যে প্রকল্প রাজ্যের শিল্প-রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, সেই টাটাকে ঘিরেই আবার কি নতুন অধ্যায় শুরু হবে? আপাতত সেই উত্তরই খুঁজছে বাংলা।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *