ধর্মতলার ছাত্র আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল। এবার টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি তুলল বিজেপি। অভিযোগ, ২৪ জুলাই নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে আয়োজিত ছাত্র মিছিলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিকৃত ছবি-সহ একটি পোস্টার প্রকাশ্যে তুলে ধরেন অভিনেত্রী। সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে আনন্দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপির মুখপাত্র কেয়া ঘোষ। পাশাপাশি বিধাননগর সাইবার থানাসহ একাধিক থানাতেও পৃথক অভিযোগ জমা পড়েছে।
বিজেপির দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীর অবমাননা করে রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারার উল্লেখ করে শ্রীলেখার বিরুদ্ধে দ্রুত এফআইআর নথিভুক্ত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। এমনকি অবিলম্বে গ্রেপ্তার না হলে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে গেরুয়া শিবির।
অভিযোগের জবাবে অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন শ্রীলেখা মিত্র। তাঁর কথায়, “আমি ইচ্ছাকৃতভাবে ওই পোস্টার হাতে নিইনি। তখন চারদিকে বিশৃঙ্খলা, পুলিশ লাঠিচার্জ করছিল। চোখে সানগ্লাস ছিল। তাড়াহুড়োয় একটা ছোট পোস্টার হাতে তুলেছিলাম। সেটায় কী ছবি ছিল, সেটা দেখার সুযোগই পাইনি।” পাশাপাশি তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হতে পারে, কিন্তু তাই বলে তাঁকে দেশদ্রোহী বা প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করার অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
এতেই থামেননি অভিনেত্রী। গ্রেপ্তারির দাবি নিয়ে কোনও উদ্বেগ নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। উল্টে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারকে নিশানা করে শ্রীলেখার প্রশ্ন, “যাঁদের ঘিরে একের পর এক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
ধর্মতলার ছাত্র আন্দোলনের পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। সাংবাদিক নিগ্রহ, ভাঙচুর এবং সংঘর্ষের অভিযোগে ইতিমধ্যেই একাধিক গ্রেপ্তারি হয়েছে। তারই মধ্যে শ্রীলেখা মিত্রকে ঘিরে নতুন বিতর্কে রাজ্যের রাজনীতি আরও সরগরম হয়ে উঠেছে।


