ঘাসফুল কার? কমিশনের সামনে মুখোমুখি কালীঘাট ও ঋতব্রত শিবির, চরম টেনশন তৃণমূলে
তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, তার উত্তর মিলতে পারে সোমবার থেকেই। দলের প্রতীক, তহবিল ও পার্টি অফিসের উপর কার অধিকার থাকবে, সেই দাবির সপক্ষে নিজেদের নথি নিয়ে সোমবার বিকেলে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে হাজির হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই পক্ষকেই নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ-সহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিশনের কাছে জবাব দেওয়ার শেষ সময়সীমা সোমবার বিকেল। এরপর দুই পক্ষের দাবি, নথি ও সাংগঠনিক সমর্থনের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
সূত্রের খবর, কালীঘাট শিবিরের হয়ে রবিবারই দিল্লি পৌঁছেছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে সমস্ত নথি কমিশনের হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙন প্রকট হয়েছে। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২১ জন সাংসদ পৃথক অবস্থান নিয়েছেন। একইসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়ক কালীঘাটের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে পৃথক জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করেছেন। এরপরই দলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, তা নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয় দুই পক্ষ।
রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা, ঘাসফুল প্রতীক ধরে রাখা নিয়ে কালীঘাট শিবিরের উদ্বেগ বেড়েছে। শনিবার একটি ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রতীক কেড়ে নিলেও কিছু করতে পারবে না। আমি যদি ঘাসফুল প্রতীক গলায় ঝুলিয়ে রাস্তায় বেরই, আটকাতে পারবে? প্রতীক সেটাই হয়, যেটা সাধারণ মানুষের মনে থেকে যায়।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বক্তব্য, তারা সমস্ত প্রমাণ নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দেবে এবং কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা-ই মেনে নেওয়া হবে।
প্রতীক বিতর্কের পাশাপাশি পার্টি অফিস নিয়েও প্রস্তুতি শুরু করেছে ঋতব্রত শিবির। তাদের দাবি, তৃণমূল ভবনের চুক্তিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চুক্তির মেয়াদ, মালিকপক্ষের অবস্থান এবং আইনি দিক বিবেচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নতুন করে চুক্তি নবীকরণ করা হবে বলেও শিবির সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
এখন নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। ঘাসফুল প্রতীক, দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পত্তির অধিকার—সব মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।


