শনিবার সকালেই ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার সাংসদ কার্যালয়ে বড়সড় প্রশাসনিক অভিযান ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান এবং প্রয়োজনীয় নথি ছাড়াই কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগে পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে বুলডোজার চালিয়ে ভাঙার কাজ শুরু হয়।
সকাল থেকেই আমতলার কার্যালয় চত্বর ঘিরে ফেলে বিপুল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা এলাকা গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। পরে একে একে তিনটি বুলডোজার ঢুকে কার্যালয়ের অংশবিশেষ ভাঙার কাজ শুরু করে। ঘটনাস্থলে ছিলেন বিষ্ণুপুর পুলিশ জেলার উচ্চপদস্থ আধিকারিক, জেলা প্রশাসনের কর্তারা এবং দমকল বাহিনী।
প্রশাসন সূত্রে দাবি, ৩০ জুন প্রথম এবং ৭ জুলাই দ্বিতীয় নোটিস পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের দপ্তরে হাজির হয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ, নোটিসের কোনও জবাব বা প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া হয়নি। এরপরই আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনেই শনিবার ভাঙার অভিযান শুরু করা হয়।
নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কার্যালয়টি অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়াই নির্মিত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বৈধ নথিও জমা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি প্রশাসনের দাবি, যে জমির উপর কার্যালয়টি নির্মিত, তা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে কেনা হয়েছিল। সেই জমির নথিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে বলেও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, কার্যালয় ভাঙার কাজ শুরু হতেই এলাকায় উপস্থিত বিজেপি কর্মীরা উল্লাস প্রকাশ করেন এবং ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেন। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অগ্নিশ্বর নস্করের দাবি, অবৈধ বা জবরদখল করা জমির উপর এই কার্যালয় নির্মিত হয়েছিল বলেই প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যালয়কে কেন্দ্র করেই সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব খাটানো হতো।
যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।


