‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে দেশজুড়ে যখন রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শনিবার সোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি জানালেন, ‘বন্দে মাতরম’ উচ্চারণে তিনি কোনও ধর্মীয় পরিচয় ঘোষণা করেন না। বরং তাঁর কাছে এটি ইতিহাস, শিকড় এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি।
তসলিমার কথায়, “আমি নির্দ্বিধায় বন্দে মাতরম বলি।” দেশভাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, তাঁর জন্ম ১৯৪৭-এর পর হলেও তাঁর বাবা-মা ছিলেন অবিভক্ত বাংলার মানুষ। একটি সীমান্তরেখা তাঁদের ভূগোলকে ভাগ করলেও ইতিহাস, ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং স্মৃতিকে কাঁটাতার দিয়ে ভাগ করা যায়নি।
বর্তমানে ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি চলছে। পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারও গানটির যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার কথা বলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শনিবার জানিয়েছেন, এ রাজ্যে থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। অন্যদিকে বামপন্থীদের বক্তব্য, দেশপ্রেমের প্রকাশ শুধুমাত্র এই গান গাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
এই রাজনৈতিক আবহেই তসলিমার মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সম্প্রতি প্রায় দু’দশক পর কলকাতায় ফিরে রবীন্দ্রসদনে নাগরিক সংবর্ধনা পেয়েছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান। তসলিমাও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, কৃতজ্ঞতা কখনও আনুগত্যের চুক্তি নয়।
‘বন্দে মাতরম’ প্রসঙ্গেও সেই স্বাধীন মতপ্রকাশের অবস্থানই বজায় রেখেছেন লেখিকা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে ভারতীয় ও বাংলার সংস্কৃতির বহুত্ববাদ এবং দেশভাগের পরেও অটুট থাকা অভিন্ন সাংস্কৃতিক শিকড়ের প্রসঙ্গ।


