ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতেও। পেট্রল, ডিজেল, সিএনজি থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাস—সব ক্ষেত্রেই মূল্যবৃদ্ধির চাপ অনুভব করছেন সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আশার বার্তা শোনালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বুধবার এনডিএ-র এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ বছরে শক্তিক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছে কেন্দ্র। তাঁর দাবি, সমুদ্রতলে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্পে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য মিলতে শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে দেশের শক্তি উৎপাদনের চেহারা বদলে দিতে পারে।
মোদি বলেন, “লালকেল্লা থেকে আমি ‘সমুদ্র মন্থন’-এর কথা বলেছিলাম। আজ সেই উদ্যোগের ফল মিলতে শুরু করেছে। শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে আগামী দিনে নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হবে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, শুধু তেল-গ্যাসের উপর নির্ভর না থেকে বিকল্প শক্তির উৎসেও জোর দিচ্ছে ভারত। তাঁর কথায়, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনে দেশ ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। আগামী দিনে ৫০০ গিগাওয়াট নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণে কেন্দ্র বদ্ধপরিকর।
পারমাণবিক শক্তির প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, ব্রিডার রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তিতে ভারতের অগ্রগতি বিশ্বের নজর কেড়েছে। এই প্রযুক্তি দেশের পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তাঁর দাবি। পাশাপাশি গ্রিন হাইড্রোজেন ও গ্রিন অ্যামোনিয়া উৎপাদনেও ভারত দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান সংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলে বিপুল তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার থাকার সম্ভাবনার কথা বহুদিন ধরেই উঠে আসছে। সম্প্রতি আন্দামান উপকূলীয় অববাহিকায় নতুন গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। কেন্দ্রের আশা, চলমান অনুসন্ধান প্রকল্প থেকে আগামী দিনে আরও বড় আবিষ্কার সামনে আসবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।


