সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বিজেপির সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ রদবদল। রবিবার দলের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বিজেপির সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে বিহারের প্রভাবশালী নেতা নীতীন নবীনকে। বর্তমানে তিনি নীতীশ কুমার সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী।
২০২০ সাল থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন জেপি নাড্ডা। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন তিনি। নাড্ডার মেয়াদ শেষের পথে পৌঁছলেও এখনও পর্যন্ত তাঁর উত্তরসূরির নাম ঘোষণা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে, শীর্ষ নেতৃত্ব শীঘ্রই নতুন সভাপতির নাম চূড়ান্ত করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে কার্যনির্বাহী সভাপতির পদে নীতীন নবীনের নাম ঘোষণা করায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
বিজেপির অন্দরে অনেকেই মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত মোটেই আকস্মিক নয়। অতীতে অমিত শাহের সভাপতিত্বকালে জেপি নাড্ডাও প্রথমে কার্যনির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ২০১৯ সালের জুন মাসে সেই দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁকে সর্বভারতীয় সভাপতি করা হয়। সেই নজির সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলের অনুমান, ভবিষ্যতে নীতীন নবীনকেই দলের শীর্ষ পদে তুলে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর নীতীন নবীনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, নীতীন নবীন একজন তরুণ, পরিশ্রমী এবং জনসংযোগে দক্ষ নেতা। তাঁর নম্রতা ও নিষ্ঠা আগামী দিনে বিজেপিকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বিহারের রাজনীতিতে নীতীন নবীন দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির অন্যতম মুখ। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পটনার বাঁকিপুর কেন্দ্র থেকে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন তিনি। আরজেডি প্রার্থী রেখা কুমারীকে ৫১ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে নিজের সাংগঠনিক শক্তি প্রমাণ করেছেন। বর্তমানে নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভায় তিনি ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর এই নতুন ভূমিকা বিজেপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।


