সঙ্গীতশিল্পী লগ্নজিতাকে মঞ্চে হেনস্থা! থানায় অভিযোগ দেয়ার, গ্রেফতার ১

Spread the love

সঙ্গীতশিল্পী লগ্নজিতাকে মঞ্চে হেনস্থা! থানায় অভিযোগ দেয়ার, গ্রেফতার ১

 

পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে গানের মঞ্চে হেনস্থার অভিযোগে উত্তাল পরিস্থিতি। শনিবার রাতে একটি বেসরকারি ইংরেজি-মাধ্যম স্কুলের অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার মুখে পড়েন গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তী। অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট গান গাওয়া নিয়ে আপত্তি তুলে মঞ্চে উঠে তাঁকে হেনস্থা করা হয়। ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

শনিবার ভগবানপুরের সাউথ পয়েন্ট পাবলিক স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে সেখানে গান পরিবেশন করছিলেন লগ্নজিতা। অনুষ্ঠান চলাকালীন ৬-৭টি গান গাওয়ার পর তিনি দেবী চৌধুরানী ছবির জনপ্রিয় গান ‘জাগো মা’ গাওয়া শুরু করেন। সেই সময়ই অভিযোগ ওঠে, স্কুলের অন্যতম মালিক মেহবুব মালিক গানটি নিয়ে আপত্তি তোলেন। তাঁর দাবি ছিল, ‘ধর্মনিরপেক্ষ গান’ গাইতে হবে, এই ধরনের গান চলবে না।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, সেই দাবি ঘিরেই বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, মেহবুব মালিক মঞ্চে উঠে শিল্পীকে মারধর করতে উদ্যত হন। ভরা মঞ্চে এই আচরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শিল্পী ও দর্শকরা। শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান মাঝপথেই বন্ধ করে মঞ্চ ছাড়তে বাধ্য হন লগ্নজিতা।

 

ঘটনার পর গায়িকার পক্ষ থেকে ভগবানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। আয়োজক স্বার্থক ভট্টাচার্য বলেন, “লগ্নজিতা গান গাওয়ার সময় হঠাৎ স্কুলের মালিক মঞ্চে উঠে শিল্পীকে মারধর করতে যান। সেকুলার গান গাওয়ার দাবি তুলে ভরা মঞ্চে একজন শিল্পীকে হেনস্থা করা হয়েছে। আমরা চাই, পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিক।”

 

ভগবানপুর থানার ওসি শাহেনশাহ হক জানান, স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে গোলমাল হয়েছিল। অভিযোগ জমা পড়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার মিতুনকুমার দে জানান, অভিযুক্ত মেহবুব মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁকে আদালতে পেশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে ভগবানপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। এসডিও স্তরের আধিকারিক তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন।

 

এ দিকে সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে লগ্নজিতা জানান, গত ১১ বছর ধরে তিনি নিয়মিত স্টেজ শো করছেন। কিন্তু এমন পরিস্থিতির মুখে কখনও পড়তে হয়নি। “যে গানটা গেয়েছি, সেটা আমার অত্যন্ত প্রিয়। আগামীতেও গাইব। কিন্তু একজন শিল্পীকে মঞ্চে উঠে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হলে সেটা ভয়াবহ,” বলেন তিনি।

 

ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীর নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *