দিল্লি–ঢাকা সম্পর্কে ফের তীব্র টানাপোড়েন। কূটনৈতিক উত্তেজনার আবহে সোমবার মঙ্গলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করল ভারতের বিদেশমন্ত্রক। উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত সাত দিনের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল দিল্লি। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল ঢাকা। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংঘাত যে ক্রমশ চরমে পৌঁছচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সূত্রের খবর, সীমান্ত সংক্রান্ত একাধিক বিষয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য ও সিদ্ধান্তকে ঘিরেই এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের তরফে রাষ্ট্রদূতের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং কিছু নির্দিষ্ট ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। যদিও সরকারি ভাবে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, ঢাকায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকও একাধিক বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বলে খবর। কূটনৈতিক মহলের মতে, দুই দেশই পরস্পরের কাছে অসন্তোষের বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে, তবে একই সঙ্গে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই ধরনের কূটনৈতিক চাপানউতোর ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার গতি কোন দিকে যায়, সেটাই এখন নজরকাড়া প্রশ্ন।
কূটনৈতিক সূত্রের ইঙ্গিত, পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী দিনে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হতে পারে। তবে আপাতত দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে উত্তেজনার পারদ যে ঊর্ধ্বমুখী, তা আর অস্বীকার করার উপায় নেই।


