বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে আন্দোলন আরও জোরদার করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্না মঞ্চের পঞ্চম দিনে মঙ্গলবার অভিনব উপায়ে প্রতিবাদ জানালেন তিনি। রং-তুলি হাতে ক্যানভাসে আঁকলেন একটি প্রতীকী ছবি, যার নাম দেন ‘ভ্যানিশ কুমার’।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করেই এই নামকরণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। ছবি আঁকার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ছবিটি আসলে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। তাঁর দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে, তাঁদের স্মরণেই ক্যানভাসের পাশে দু’টি মালা রাখা হয়েছে। মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই প্রতীকী উপস্থাপনা বলে জানান তিনি।
ভোটের মাত্র কয়েক মাস আগে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুরু থেকেই এই বিষয়টি নিয়ে সরব তিনি। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার ফলে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছেন বলেও জানান। তবে সেই চিঠিগুলির কোনও উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি বলেই অভিযোগ করেন মমতা।
পরবর্তীতে এই ইস্যুতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরেও যান তিনি। সেখানে এসআইআর প্রক্রিয়ায় মৃতদের পরিবারের সদস্যদেরও নিয়ে যাওয়া হয়। সেই বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক থেকে বেরিয়ে কমিশনারের আচরণকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
এদিকে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গ উঠতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ এবং এখানে সকলেরই মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলি তাদের বক্তব্য জানাতেই পারে। তবে রাজনৈতিক মন্তব্যের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি।
ধর্মতলার ধর্না মঞ্চে এই অভিনব প্রতিবাদ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। এসআইআর ইস্যুতে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের টানাপোড়েন যে এখনও অব্যাহত, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তা আরও একবার স্পষ্ট হল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।


