পাহাড়ে দাবার চাল মমতার, জোটের গিঁটে আটকে বিজেপি! দার্জিলিংয়ে ‘এক আসন, বহু দাবিদার’ সংকটে গেরুয়া শিবির

Spread the love

পাহাড়ের রাজনীতি আবারও প্রমাণ করল—এখানে সমীকরণ যত না সংখ্যার, তার চেয়েও বেশি মান-অভিমান আর ক্ষমতার টানাপোড়েনের। আর সেই জটিল খেলায় এই মুহূর্তে চাপে পড়েছে বিজেপি শিবির।

মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার মঞ্চ থেকেই মাস্টারস্ট্রোক খেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চাকে পাশে টেনে নিয়ে তিনি পাহাড়ে নিজের জমি মজবুত করার পাশাপাশি বিজেপির জোট অঙ্কে ছুঁড়ে দেন বড় ধাক্কা। রাজনীতির ভাষায়, এ এক ‘প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক’—যেখানে প্রতিপক্ষের চাল দেওয়ার আগেই বোর্ড কাঁপিয়ে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, বিজেপির ঘরে এখন একটাই সমস্যা—সবাই সঙ্গী, কিন্তু কাউকেই খুশি রাখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে দার্জিলিং আসন যেন হয়ে উঠেছে সম্মানের লড়াইয়ের মঞ্চ।

বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা চাইছে দার্জিলিং বা কালিম্পং—যে কোনও একটি। অজয় এডওয়ার্ডের ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট সরাসরি দার্জিলিংকেই টার্গেট করেছে। আর জিএনএলএফ? তারা স্পষ্ট—জেতা আসন ছাড়া মানেই রাজনৈতিক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

ফলে ছবিটা দাঁড়াচ্ছে এমন—একটি আসন, তিনটি শক্তিশালী দাবি, আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে বিজেপি। সিদ্ধান্ত যেদিকেই ঝুঁকবে, সেদিকেই অসন্তোষের আগুন জ্বলবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা গেরুয়া শিবিরের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ে বিজেপির এই দোটানা নতুন নয়, তবে এবারের চাপ অনেক বেশি। কারণ, তৃণমূল আগেভাগেই নিজের জোট সুরক্ষিত করে ফেলেছে। ফলে দেরি করলে শুধু আসন নয়, প্রভাবও হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

সব মিলিয়ে পাহাড়ে এখন রাজনীতি নয়, যেন হাই-স্টেকস স্ট্র্যাটেজি গেম। আর সেই খেলায় বিজেপি এই মুহূর্তে এমন এক চৌরাস্তার সামনে, যেখানে প্রতিটি পথেই ঝুঁকি—কিন্তু থেমে থাকার সুযোগ নেই।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *