সুন্দরবনে ফের বাঘের হামলায় প্রাণ হারালেন এক মাছ-শিকারি। মৃতের নাম গোষ্ঠ জানা (৫৩)। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মইপিঠ এলাকার বিনোদপুর-হরিখালি বাজার সংলগ্ন গ্রামে। জীবিকার তাগিদে নদী ও জঙ্গলে মাছ-কাঁকড়া ধরাই ছিল তাঁর প্রধান পেশা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ গোষ্ঠ জানা আরও তিনজন সঙ্গীকে নিয়ে সুন্দরবনের বোঠেভাঙা জঙ্গলে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান। তাঁদের কাছে বন দফতরের বৈধ অনুমতি ছিল না বলে জানা গেছে। জঙ্গলের একটি খাঁড়ি পেরিয়ে কিছুটা ভিতরে ঢুকে তাঁরা মাছ-কাঁকড়া ধরার কাজ শুরু করেন। সেই সময় আচমকাই একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার গোষ্ঠ জানার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে সঙ্গীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাঘ গোষ্ঠ জানাকে টেনে গভীর জঙ্গলের ভিতরে নিয়ে চলে যায়। সঙ্গে থাকা অন্য তিনজন তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তাঁরা গ্রামে ফিরে এসে ঘটনাটি জানান।
খবর পেয়ে গ্রামবাসীরা দল বেঁধে জঙ্গলে যান এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গোষ্ঠ জানার দেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। পরে মইপিঠ কোস্টাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকাহত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সুন্দরবনের বহু মানুষের জীবিকা এখনও নদী ও জঙ্গলের মাছ-কাঁকড়া সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল। জঙ্গলের গভীরে তুলনামূলক বেশি মাছ ও কাঁকড়া পাওয়া যায় বলে অনেকেই ঝুঁকি নিয়েই সেখানে প্রবেশ করেন।
গ্রামবাসীদের মতে, বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবই মানুষকে বারবার বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বাঘের আক্রমণের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও সংসার চালানোর তাগিদে তাঁদের জঙ্গলে যেতে হয়। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, পর্যাপ্ত আয়ের অন্য সুযোগ না থাকায় অনেকের সামনে দুটি পথই খোলা থাকে—হয় সুন্দরবনের বিপজ্জনক জঙ্গলে মাছ-কাঁকড়া ধরতে যাওয়া, নয়তো ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজের সন্ধানে পাড়ি দেওয়া। ফলে জীবিকার তাগিদে এখনও বহু মানুষ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনের জঙ্গলে প্রবেশ করছেন।


