দীর্ঘ ছ’বছরের বিরতি কাটিয়ে আবারও অভিনয়ে ফিরছেন বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। আর তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের সঙ্গী হচ্ছেন বাঙালি পরিচালক রামকমল মুখোপাধ্যায়। আসন্ন ছবিতে সেলিনাকে দেখা যাবে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ভগিনী নিবেদিতার চরিত্রে। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে সেই লুক, যা দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল বাড়িয়েছে।
২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ ছিল সেলিনা জেটলির শেষ পূর্ণদৈর্ঘ্যের বলিউড ছবি। এরপর ২০২০ সালে রামকমল মুখোপাধ্যায়ের স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘সিজনস গ্রিটিংস’-এ অভিনয় করলেও দীর্ঘ সময় তাঁকে আর বড় পর্দায় দেখা যায়নি। এবার ফের রামকমলের পরিচালনাতেই নতুন ইনিংস শুরু করছেন অভিনেত্রী।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেলিনা জানিয়েছেন, ভগিনী নিবেদিতার মতো একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগের। তিনি এই কাজকে নিজের ‘ব্যক্তিগত জার্নি’ বলেই উল্লেখ করেছেন।
পরিচালক রামকমল মুখোপাধ্যায়ের প্রশংসা করে অভিনেত্রী বলেন, “রামের মতো দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করা আমার জন্য সম্পূর্ণ আলাদা একটা অভিজ্ঞতা। ওঁর ছবিতে শুধু চরিত্রের অভিনয় করলেই হয় না, সেই সময়টাকেও নিজের মধ্যে ধারণ করতে হয়।”
বর্তমানে বিদেশি স্বামী পিটার হগের সঙ্গে সেলিনার বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছে। ব্যক্তিগত জীবনের আইনি জটিলতার মধ্যেও নিজেকে নতুনভাবে গুছিয়ে নিয়ে কাজে ফিরেছেন তিনি। এমন এক সময়ে ভগিনী নিবেদিতার চরিত্র তাঁর কাছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সেলিনার কথায়, ভগিনী নিবেদিতার সঙ্গে তাঁর যোগ অনেক পুরনো। শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “আমার বাবা পশ্চিমবঙ্গের বিনাগুড়িতে কর্মরত ছিলেন। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে সেনাবাহিনীর কনভয়ে করে আমরা প্রায়ই দার্জিলিং যেতাম। পথে রয় ভিলায় থামতাম, যেখানে ভগিনী নিবেদিতা জীবনের শেষ দিনগুলি কাটিয়েছিলেন। বাবা-মা সেখানে হাঁটতেন, আর আমরা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতাম। এখন ফিরে তাকালে মনে হয়, সেই জায়গাটি আমার মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।”
বাস্তব জীবনের সেই স্মৃতির সঙ্গে এবার অভিনয়ের মাধ্যমে ভগিনী নিবেদিতাকে নতুন করে আবিষ্কার করতে চলেছেন সেলিনা জেটলি। দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর এই কামব্যাক দর্শকদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে, সেদিকেই এখন নজর বলিউড মহলের।


