চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ইস্তফায় তৃণমূলে বড় ধাক্কা

Spread the love

শ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। শুধু তাই নয়, তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের অনুমোদিত প্রতিনিধির পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন।

শনিবার পদত্যাগপত্র পাঠানোর পরই চন্দ্রিমা বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে গিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তাঁকে হাসিমুখে বিদ্রোহী নেতাদের সঙ্গে বসে থাকতে দেখা যায়, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চন্দ্রিমা বলেন, “যেখানে বিশ্বাস ও আস্থা নেই, সেখানে কাজ করা সম্ভব নয়। তাই আমি ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

গত ৩ জুন বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের সমস্ত কমিটি ভেঙে নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলেন। সেই সময়ই সুব্রত বক্সির পরিবর্তে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

রাজনৈতিক মহলের মতে, চন্দ্রিমার এই সিদ্ধান্ত বিদ্রোহী শিবিরকে আরও শক্তিশালী করল। এর আগে তৃণমূলের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সায়নী ঘোষও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ দেখিয়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন।

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি রাজ্যের অর্থ, স্বাস্থ্য এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্বও সামলেছেন।

এদিকে চন্দ্রিমার পদত্যাগের পর তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব ভোগ করার সময় তো তিনি পদত্যাগ করেননি। এখন কেন এই সিদ্ধান্ত?”

চন্দ্রিমার এই পদক্ষেপে তৃণমূলের অন্দরের সংকট আরও প্রকট হল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে চলা আইনি লড়াইয়ের আবহে এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *