মারাঠি নাট্যজগত ও ভারতীয় সমান্তরাল চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব বিজয়া মেহতার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৯১ বছর বয়সে মুম্বইয়ের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আধুনিক মারাঠি থিয়েটারের অন্যতম পথিকৃৎ এই শিল্পী।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, বিজয়া মেহতা ভারতের সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আধুনিক মারাঠি থিয়েটারের অগ্রদূত হিসেবে তাঁর সৃজনশীলতা ও শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা প্রজন্মের পর প্রজন্মের অভিনেতা, পরিচালক ও নাট্যপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, “তাঁর পরিবার, অনুরাগী এবং সমগ্র শিল্পী সমাজের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। ওঁ শান্তি।”
স্নেহের নামে “বাই” নামে পরিচিত বিজয়া মেহতা ছিলেন ভারতের পরীক্ষামূলক নাট্য আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ। নাট্যকার বিজয় তেন্ডুলকর, অভিনেতা অরবিন্দ দেশপাণ্ডে ও শ্রীরাম লাগুর সঙ্গে তিনি মুম্বইয়ের ‘রঙ্গায়ন’ নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।
ছয় দশকেরও বেশি দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ‘এক শূন্য বাজিরাও’, ‘আজব ন্যায় বর্তুলাচা’-সহ একাধিক উল্লেখযোগ্য নাটক পরিচালনা করেন। পাশাপাশি ‘রাও সাহেব’ ও ‘পেস্টনজি’-র মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্রও পরিচালনা করেন। অভিনেত্রী হিসেবেও ‘কলিযুগ’ ও ‘পার্টি’-র মতো সমান্তরাল ধারার ছবিতে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে সমাদৃত হয়।
১৯৩৪ সালের ৪ নভেম্বর বরোদায় জন্মগ্রহণ করা বিজয়া মেহতা ইব্রাহিম আলকাজি ও আদি মারজবানের কাছে নাট্যশিক্ষা নেন। কর্মজীবনে তিনি ১৯৮৬ সালে পদ্মশ্রী, ১৯৭৫ সালে সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার, ২০১২ সালে ঠাকুর রত্ন সম্মান এবং শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হন।


