E20 পেট্রল ঘিরে কেন্দ্রের অস্বস্তি, যন্তরমন্তরে ধরনা; ইঞ্জিন-মাইলেজ বিতর্কে নতুন করে প্রশ্ন

Spread the love

দেশে জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে কেন্দ্রের E20 পেট্রল নীতি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে ইথানল-মিশ্রিত E20 পেট্রলের বিরুদ্ধে ধরনা কর্মসূচি শুরু করেছে নাগরিক সমাজের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, পেট্রলে ইথানল মেশানোর নীতির আড়ালে বড়সড় দুর্নীতি হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে সরকারের শীর্ষ স্তরের ব্যক্তিরা লাভবান হচ্ছেন।

বর্তমানে যন্তরমন্তরেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশন ও ধরনা কর্মসূচি চলছে। সেই একই স্থানে এবার E20 পেট্রল ইস্যুতেও বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় কেন্দ্রের উপর রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। এই আন্দোলনের অন্যতম আয়োজক হিসেবে কংগ্রেস-ঘনিষ্ঠ কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের নাম উঠে এসেছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বহুদিন ধরেই ইথানলের ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। সরকারের পরিকল্পনা, ভবিষ্যতে আরও বেশি মাত্রায় ইথানল-ভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করা। আখ, ভুট্টাসহ বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য থেকে তৈরি হওয়া ইথানলকে পেট্রলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়। কেন্দ্রের দাবি, এর ফলে বিদেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেও ইথানলের গুরুত্ব বেড়েছে বলে সরকারের মত।

তবে এই নীতি নিয়ে গ্রাহকদের একাংশের আপত্তি রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, E20 পেট্রল ব্যবহারে অনেক গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে এবং পুরনো মডেলের কিছু গাড়িতে প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমনও অভিযোগ রয়েছে যে, কিছু ক্ষেত্রে নতুন গাড়ি কেনার প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইঞ্জিন ক্ষতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে দেশের শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলি। শনিবার দিল্লিতে মারুতি সুজুকি, টয়োটা, বাজাজ, টিভিএস, হুন্ডাই এবং হিরো মটোকর্পের শীর্ষ আধিকারিকরা যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রায় ২.৮ কোটি গাড়ির সার্ভিসিংয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে ইথানলের কারণে ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনও প্রমাণ মেলেনি। এর মধ্যে প্রায় দেড় কোটি গাড়ির বয়স তিন বছরেরও বেশি ছিল।

তবে সংস্থাগুলিও স্বীকার করেছে, E20 পেট্রল ব্যবহারে মাইলেজে সামান্য প্রভাব পড়ে। মারুতি সুজুকির কর্তা রাহুল ভারতী জানান, গড়ে প্রায় ৩ থেকে ৩.৫ শতাংশ পর্যন্ত মাইলেজ কমার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে ইঞ্জিনের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস মিললেও, জ্বালানি দক্ষতা নিয়ে বিতর্ক আপাতত থামছে না।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *