শোক, ক্ষোভ আর প্রতিশোধের বার্তায় মুখর ইরানের রাজধানী। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য উপলক্ষে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসা জনতার একাংশের মুখে শোনা গেল আমেরিকা ও ইজরায়েল-বিরোধী স্লোগান। সেই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের হুঙ্কারও উঠে আসে সমাবেশ থেকে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন আলি খামেনেই। নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার কারণে কয়েক মাস পর তাঁর শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়েছে। তেহরান থেকে শুরু হওয়া শোকযাত্রা ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালা হয়ে ইরানের মাশহাদে পৌঁছবে। সেখানেই তাঁকে সমাহিত করার কথা রয়েছে।
রবিবার তেহরানের শোকানুষ্ঠানে উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকের হাতেই ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা এবং আমেরিকা ও ইজরায়েল-বিরোধী প্ল্যাকার্ড। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কবি মহম্মদ রসৌলি বলেন, “এখন থেকে কফিনই আমাদের পোশাক। ট্রাম্পকে হত্যা করা আমাদের শপথ।” তাঁর এই মন্তব্যের পর উপস্থিত একাংশের মানুষ স্লোগানে সমর্থন জানান। যদিও এই বক্তব্য ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে দেখা যায়, খামেনেইয়ের তিন পুত্র মোস্তফা, মেসাম এবং মাসুদ কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে শেষ প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছেন। শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের গালিবাফ এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কর্মকর্তারাও। তবে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে এই অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও সরকারিভাবে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।


