ককপিটেই বাবাকে কবিতায় বিদায় জানালেন কন্যা, চোখ ভিজল যাত্রীদেরও

Spread the love

সব বিমানযাত্রা শুধু এক শহর থেকে আরেক শহরে পৌঁছানোর গল্প নয়। কিছু উড়ান আজীবন মনে থেকে যায় তার আবেগ, ভালোবাসা আর স্মরণীয় মুহূর্তের জন্য। ঠিক তেমনই এক বিরল দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন ইন্ডিগোর দিল্লি-দেওঘর ফ্লাইটের যাত্রীরা। ৪৬ বছরের দীর্ঘ উড়ানজীবনের ইতি টানলেন অভিজ্ঞ পাইলট ক্যাপ্টেন সন্দীপ পুরি। আর তাঁর শেষ ফ্লাইটকে স্মরণীয় করে তুললেন তাঁরই মেয়ে আস্থা পুরি, যিনি সেই ফ্লাইটের সহ-পাইলট ছিলেন।

ফ্লাইটের মাঝেই কেবিন ঘোষণার মাধ্যমে নিজের পরিচয় দেন আস্থা। তারপর বাবার উদ্দেশে আবেগঘন একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। তাঁর কণ্ঠে ভেসে আসে, “মেরে পিতা কে হার এক সংগ্রশ কো করতি হুঁ সালাম”—অর্থাৎ, “আমার বাবার প্রতিটি সংগ্রামকে আমি স্যালুট জানাই।” মুহূর্তেই গোটা বিমানজুড়ে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। যাত্রীরা হাততালিতে ভরিয়ে দেন সেই বিশেষ মুহূর্তকে।

এরপর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ক্যাপ্টেন সন্দীপ পুরি বলেন, “আজ আমার জীবনের সবচেয়ে বিশেষ দিনগুলোর একটি। আমার স্ত্রী, ছেলে সৌরভ এবং মেয়ে আস্থা—সবাই আজ আমার সঙ্গে এই শেষ উড়ানে রয়েছে। এর চেয়ে বড় আশীর্বাদ আর কিছু হতে পারে না।” ৪৬ বছরের পেশাজীবনের ইতি টানতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠেও ধরা পড়ে আবেগ।

এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। অসংখ্য মানুষ ক্যাপ্টেন পুরিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কেউ লিখেছেন, “একজন বাবার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের মুহূর্ত।” আবার কেউ বলেছেন, “এমন বিদায় প্রতিটি মানুষ প্রাপ্য।” অনেকেই আস্থার এই উদ্যোগকে ‘অমূল্য উপহার’ বলেও উল্লেখ করেছেন।

ক্যাপ্টেন সন্দীপ পুরির কর্মজীবনও কম গৌরবের নয়। ১৯৮১ সালে ভারতীয় বায়ুসেনার ফ্লাইং ব্রাঞ্চে কমিশনপ্রাপ্ত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন দেশের সেবা করেন। ফ্রন্টলাইন জাগুয়ার স্কোয়াড্রনের কমান্ডিং অফিসার থেকে শুরু করে এয়ার হেডকোয়ার্টার্সে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ভারতীয় বায়ুসেনা থেকে অবসর নেওয়ার পর ইন্ডিগোতে বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে যোগ দেন এবং দীর্ঘদিন নিরাপদে লক্ষ লক্ষ যাত্রীকে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেন।

৪৬ বছরের সেই আকাশছোঁয়া যাত্রার শেষ অধ্যায়ে পরিবারের উপস্থিতি, কন্যার কণ্ঠে বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর যাত্রীদের ভালোবাসা—সব মিলিয়ে এই বিদায় শুধু একজন পাইলটের অবসর নয়, বরং এক অনন্য বাবা-মেয়ের সম্পর্কের উদযাপন হয়ে উঠেছে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *