আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে নিগৃহীত তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে ৯ আগস্ট। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও ন্যায়বিচার মেলেনি বলেই অভিযোগ তরুণীর পরিবারের। সেই কারণেই এবার আর অপেক্ষা নয়—পুনরায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে চলেছেন তাঁরা। ঘোষণা করা হয়েছে, ৯ আগস্ট ‘নবান্ন অভিযান’-এর ডাক। একইসঙ্গে ১৪ আগস্ট ফের ‘রাত দখল’ কর্মসূচিরও বার্তা দেওয়া হয়েছে।শনিবার সোদপুরে উল্টোরথের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে সন্ধ্যায় তিনি সরাসরি পৌঁছে যান নির্যাতিতার বাড়িতে। মা-বাবার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এরপরই পরিবারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, তাঁরা ৯ আগস্ট নবান্ন অভিযানে নেতৃত্ব দেবেন। সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে নির্যাতিতার বাবা বলেন,“একটা বছর পেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখনও আমাদের মেয়ের জন্য সুবিচার মেলেনি। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না। এই বিচার আদায়ের জন্য আমরা রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন করছি—আগামী ৯ আগস্ট সকলে যেন পথে নামেন।”তিনি আরও বলেন,“আমার মেয়ের মৃত্যু নিছক একটি দুর্ঘটনা নয়, এটা গোটা ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতিফলন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল—সব জায়গাতেই মেয়েরা আজ অরক্ষিত। ১৪ আগস্ট আমরা যেমন রাস্তায় নেমেছিলাম, এবারও চাই গোটা রাজ্য যেন ফের প্রতিবাদে ফেটে পড়ে।”শুধু আর জি কর কাণ্ড নয়, এই আন্দোলনের সুর কসবার ল-কলেজে নির্যাতিতা ছাত্রীর ঘটনার সঙ্গেও জুড়ে দিলেন তিনি। জানালেন, ওই নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থাকবেন তাঁরা। প্রয়োজনে আইনি অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।নির্যাতিতার পরিবারের এই আন্দোলনের আহ্বানে পাশে দাঁড়িয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য,“আমি আগেই বলেছিলাম, নির্যাতিতার মা-বাবা যদি ৯ আগস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক দেন, তাহলে আমি শুধু সমর্থন করব না, নিজের দলীয় পরিচয় সরিয়ে রেখে সেই আন্দোলনে শরিক হব। আজকের সভায় সেই ডাক মিলেছে। এবার আমাদের দায়িত্ব আন্দোলনকে সফল করা।”তিনি আরও বলেন,“এটা কোনও দলীয় লড়াই নয়। এটা ন্যায়বিচারের লড়াই। যারা পূর্বে রাত দখলের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, ছাত্রসমাজ, নাগরিক সমাজ, সমস্ত শুভানুধ্যায়ী—সবাইকে নিয়ে আমরা সম্মিলিতভাবে নামব।”এখনও পর্যন্ত সরকার পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদের বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আন্দোলন রাজ্যের ভিতর ফের এক দফা প্রতিবাদের ঝড় তুলতে পারে। বর্ষপূর্তিতে যে ক্ষোভ জমা হয়েছিল, এবার তা রাস্তায় নামতে চলেছে। এখন দেখার, ৯ আগস্ট ও ১৪ আগস্ট রাজ্যজুড়ে সেই প্রতিবাদ কতটা বিস্তার পায়।
আর জি কর কাণ্ডে বর্ষপূর্তিতে প্রতিবাদ তীব্রতর, নবান্ন অভিযানের ডাক নির্যাতিতার পরিবারের


