নারী সংরক্ষণ বিল—শুনতে উন্নয়নের কথা, কিন্তু এর আড়ালেই কি লুকিয়ে বড় রাজনৈতিক খেলা? আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে ঠিক এই প্রশ্নেই এখন উত্তাল দেশ। বিরোধীদের সরাসরি অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিকে ধীরে ধীরে গুরুত্বহীন করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অবশ্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন—দেশের কোনও অংশের সঙ্গে অবিচার হবে না, এটা তাঁর গ্যারান্টি। কিন্তু সেই আশ্বাসে রাজনৈতিক ঝড় থামেনি।
সমস্যার মূল জায়গা ২০১১ সালের জনগণনার হিসাব। যদি সেই ভিত্তিতে লোকসভা আসন বাড়ানো হয়, তাহলে উত্তর ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সেই দিকেই আসন বাড়বে বেশি। বিরোধীদের আশঙ্কা, এর ফলে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে উত্তর ভারত, আর দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের গুরুত্ব ধীরে ধীরে কমে যাবে।
এর মাঝেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন—দক্ষিণের রাজ্যগুলিও বঞ্চিত হবে না, বরং তাদের আসনও বাড়বে। তামিলনাড়ু, কেরল, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ—সব জায়গাতেই আসন বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে আরও বেশি আসন বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
এখানেই তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই সংখ্যাগুলির ভিত্তি কী? জনসংখ্যা, না কি অন্য কোনও রাজনৈতিক হিসাব? সরকার এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি, আর সেই কারণেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
শোনা যাচ্ছে, লোকসভার মোট আসন বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদি তা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে শুধু আসনের সংখ্যা নয়—দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যই আমূল বদলে যেতে পারে।
সরকার বলছে সমতা বজায় থাকবে, বিরোধীরা বলছে এটা ক্ষমতার নতুন অঙ্ক।
শেষ পর্যন্ত সত্যিটা কী—সেটাই এখন দেশের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


