মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলা মহিলা হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হল তিন সদ্যোজাত শিশুর। সোমবার ভোররাতে হাসপাতালের শিশুদের ওয়ার্ডে আচমকাই আগুন ধরে যায়। সেই সময় ওই ওয়ার্ডে মোট ৩৯টি শিশু চিকিৎসাধীন ছিল।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ একটি ভেন্টিলেটরে বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে শিশুদের ওয়ার্ডে। খবর পেয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। অধিকাংশ শিশুকেই কোনওরকমে নিরাপদে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হলেও তিন সদ্যোজাতকে বাঁচানো যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডে আরও ছয় শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের স্থানীয় একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে চিকিৎসা চলছে। ঘটনার খবর পেয়ে ডিসিপি-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। শুরু হয়েছে তদন্ত।
হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে একটি এনকোয়ারি কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল কি না এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে ওই কমিটি।
তিন শিশুর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে। সরকারি সাহায্যের ঘোষণাও করা হয়েছে। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিকাঠামো ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে এবং মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী যশোমতী চন্দ্রকান্ত ঠাকুর। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতাল পরিচালনায় গুরুতর গাফিলতির জেরেই তিনটি নিষ্পাপ প্রাণ অকালে ঝরে গেল।


