দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের শিবনগর আবাদ গ্রামে এখন সবচেয়ে বড় রহস্য — রাস্তা গেল কোথায়? গ্রামের মানুষ বলছেন, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার আওতায় সাড়ে তিন কিলোমিটার পিচ রাস্তা হওয়ার কথা ছিল। টেন্ডার পাশ হয়েছে, প্রকল্প কোডও রয়েছে — WB02290। শুধু রাস্তা ছাড়া বাকি সবকিছুই নাকি ঠিকঠাক হয়েছে!
অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূলের স্থানীয় নেতা ও ঠিকাদার মিলে পুরো প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বাস্তবে যেখানে পিচ রাস্তা হওয়ার কথা ছিল, সেখানে মাত্র ১০০ মিটার সিমেন্টের ঢালাই করে “উন্নয়নের ট্রেলার” দেখিয়ে পুরো সিনেমার বাজেট উধাও করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের।
শিবনগর আবাদ গ্রামের বাসিন্দা স্নেহাশীষ গিরি এই নিয়ে নামখানা বিডিও অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাদল ভূঁইয়ার বাড়ি থেকে দক্ষিণ দিকে ‘উত্তর-পশ্চিম পাড়া ফ্রি প্রাইমারি স্কুল’ পর্যন্ত রাস্তা অনুমোদিত হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে রাস্তা না থাকলেও, কাগজে-কলমে সেই রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত হয়ে গেছে! অভিযোগ, ২০২০ সাল থেকে ০১/০৭/২০২৫ পর্যন্ত ঠিকাদার ওই “অদৃশ্য রাস্তা”-র রক্ষণাবেক্ষণের টাকাও তুলেছেন নিয়ম মেনে।
গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দার কটাক্ষ, “রাস্তা চোখে দেখা যায় না, কারণ এটা সাধারণ রাস্তা নয়— এটা ‘ডিজিটাল উন্নয়ন’। শুধু ফাইলে দেখা যায়!”
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি আবাস যোজনা থেকে রাস্তা— সব ক্ষেত্রেই কাটমানি ও দুর্নীতির রাজত্ব চলেছে। কারও মতে, “এখানে রাস্তা কম, বিল বেশি তৈরি হয়।” আবার কেউ বলছেন, “পিচের রাস্তা কাগজে হয়েছে, বাস্তবে শুধু প্রতিশ্রুতির ধুলো উড়ছে।”
সবচেয়ে মজার বিষয়, অভিযোগ অনুযায়ী রাস্তা তৈরি না হলেও তার ‘রক্ষণাবেক্ষণ’ হয়েছে পাঁচ বছর ধরে। ফলে গ্রামের মানুষ এখন মজা করে বলছেন, “রাস্তা হয়তো রাতে বেরোত, তাই দিনে আমরা দেখতে পাইনি!”
এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূল আমলে রাস্তা মানেই দু-নম্বর। পিচের রাস্তা কংক্রিট, কংক্রিটের রাস্তা মোরাম— সবেতেই কারচুপি হয়েছে। রাস্তা না হলেও দু’বার টাকা উঠেছে। সব রিভিউ হচ্ছে, কাউকে ছাড়া হবে না। সব এফআইআর হবে।”
তবে গ্রামবাসীদের প্রশ্ন, তদন্ত সত্যিই হবে তো? নাকি তদন্তও ওই রাস্তার মতোই কাগজে-কলমে ঘুরে বেড়াবে?
এখন গোটা নামখানার নজর বিডিও অফিসের দিকে। কারণ গ্রামের মানুষ জানেন, রাস্তা যদি সত্যিই “খেয়ে ফেলা” হয়ে থাকে, তাহলে অন্তত তদন্তটা যেন হজম না হয়ে যায়!


